উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আঙিনা, জমির আইল ও পতিত জমিতে বাঁশের মাচা তৈরি করে শিম চাষ করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে আবাদ করা এবং ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন এ ফসলের চাষ বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবেও শিম চাষকে বেছে নিচ্ছেন অনেক কৃষক।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শিম চাষে বীজ, বাঁশ, মাচা তৈরি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করতে হয়। তবে ফলন ভালো হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের সম্ভাবনা থাকে। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে শিমগাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। এতে ভালো ফলন এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশায় কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তবে উৎপাদন মৌসুমে বাজারে শিমের সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। কৃষকদের মতে, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত শিম সহজে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাঁরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন। পাশাপাশি রোগবালাই দমন, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শও কামনা করেছেন তাঁরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোদা উপজেলায় প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬নং মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাড়েয়া ইউনিয়নে শিমের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে, যা উপজেলার ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সর্বাধিক।
তিনি আরও জানান, সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি অনুসরণ করা হলে শিমের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে বোদার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নে শিম চাষকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, যাতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ ঘরে তুলতে পারেন তাঁরা।
The post বোদার মাড়েয়ায় ব্যাপক শিম চাষ, ভালো লাভের আশায় কৃষকরা appeared first on ভোরের চেতনা.
