১৯ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
ব্ল্যাকহোল আলোকে আটকে রাখে, এ কথা সবার জানা। এবার সেই ধারণা কাজে লাগিয়ে শব্দ শোষণ করার একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতীকী ছবি, সংগৃহীত
শব্দের প্রতিধ্বনি কমাতে নতুন এক যন্ত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখতে অনেকটা ক্রিসমাস ট্রির মতো এই যন্ত্রের নাম ‘সনিক ব্ল্যাকহোল’ বা শব্দীয় কৃষ্ণগহ্বর। এটি পাইপের ভেতরে বসালে শব্দের ফিরে আসা অনেকটাই কমে যায়। ফলে বাড়ি, কারখানা কিংবা বাতাস চলাচলের নালিতে বিরক্তিকর আওয়াজ কমানোর নতুন উপায় পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
কোনো ঘরে জোরে কথা বললে কিংবা পাহাড়ের কাছে চিৎকার করলে কখনো কখনো সেই শব্দ আবার ফিরে আসে। একে বলে প্রতিধ্বনি। দেওয়াল বা অন্য কোনো বাধায় ধাক্কা খেয়ে শব্দ ফিরে এলে এমনটা ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিধ্বনি মজার হলেও, অনেক সময় তা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে বাড়ির পানির পাইপ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের নল কিংবা কারখানার বাতাস চলাচলের পথে শব্দ আটকে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে পারে। এটি অপ্রয়োজনীয় ও বিরক্তিকর একটি বিষয়।
এই সমস্যা কমানোর উপায় খুঁজতে কাজ করেছেন স্পেনের লা সালে রামন লুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাদের তৈরি নতুন যন্ত্রটি পুরোনো পাইপের ভেতরেও বসানো যায়। এটাই এর বড় সুবিধা। আগে এ ধরনের যন্ত্র পাইপ তৈরির সময়ই বসাতে হতো।

শব্দকে কীভাবে আটকে দেয়
মহাকাশের ব্ল্যাকহোল এত শক্তিশালী যে এর কাছাকাছি গেলে আলোও আর বেরিয়ে আসতে পারে না। নতুন যন্ত্রটির নাম ব্ল্যাকহোল হলেও এটি মহাকাশের কোনো গর্ত নয়। বরং বিশেষভাবে তৈরি একটি কাঠামো, যা শব্দের চলাচল বদলে দেয়।
যন্ত্রটির কাজ বোঝার জন্য একটি নদীর কথা ভাবা যেতে পারে। নদীর পানি যেমন কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরে চলে, তেমনি এই যন্ত্রের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দতরঙ্গও ধীরে ধীরে গতি হারায়। একপর্যায়ে শব্দের শক্তি যন্ত্রটির একটি অংশে জমা হয়। এরপর বাতাস ও যন্ত্রের গায়ের মধ্যে ঘর্ষণ এবং তাপের আদান-প্রদানের কারণে শব্দের শক্তি কমে যায়। ফলে আগের মতো জোরে শব্দ ফিরে আসতে পারে না। এভাবেই এই যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিধ্বনি কমে।
দেখতে কেমন এই যন্ত্র?
গবেষকেরা যন্ত্রটি তৈরির জন্য একটি সরু দণ্ডের গায়ে পরপর অনেকগুলো গোলাকার রিং বসিয়েছেন। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে যেতে রিংগুলোর আকার বদলে যায়। রিংগুলোর মাঝখানে থাকে ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা। এই ফাঁকা জায়গাগুলোই শব্দের চলাচল বদলাতে সাহায্য করে।
যন্ত্রটির বিশেষত্ব হলো, এটি আলাদাভাবে তৈরি করে পরে পাইপের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। দেখতে অনেকটা ক্রিসমাস ট্রির মতো বলে গবেষকেরা এর নকশাকে সেই গাছের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পরীক্ষার জন্য তারা থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে ১৫ সেন্টিমিটার লম্বা একটি যন্ত্র তৈরি করেন। এতে ছিল ২৯টি রিং। এরপর সেটি একটি বিশেষ নলের ভেতরে বসিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়।
গবেষকেরা নলের ভেতর বিভিন্ন ধরনের শব্দ পাঠান। তারপর মাইক্রোফোন দিয়ে মাপেন, কতটা শব্দ ফিরে আসছে। পরীক্ষার ফল কম্পিউটারে করা হিসাবের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। তবে যন্ত্রটি সব প্রতিধ্বনি বন্ধ করতে পারেনি।
এই যন্ত্র ভবিষ্যতে বাড়ি, অফিস, কারখানা এবং বাতাস চলাচলের নালিতে শব্দ কমাতে কাজে লাগতে পারে। ঘরের ভেতরে শব্দের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
