যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি দেখল দেশটি। সরকারি খরচ বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধে রেকর্ড ব্যয় ও শুল্কের অর্থ ফেরত দেয়ার কারণে ঘাটতি বেড়েছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রতিরক্ষা খাতের বাড়তি ব্যয়ও এ ঘাটতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। ২০২১ অর্থবছরে কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় বিপুল ব্যয়ের কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলারে উঠেছিল। ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতির হিসাবে ২০২৬ অর্থবছরের অবস্থান তৃতীয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয় রেকর্ড ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৫ লাখ ২৪ হাজার কোটি ডলার। এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার বা ৩ শতাংশ।
তবে সরকারের ব্যয় বেড়েছে এর চেয়ে বেশি। ২০২৬ অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয় রেকর্ড ৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগের অর্থবছরে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ১ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার বা ৬ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ায় বাজেট ঘাটতি আরো বিস্তৃত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ ঋণের সুদ পরিশোধ। ২০২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার বা ১২ শতাংশ। সরকারের ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচির সম্মিলিত ব্যয়ের পরই রয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধের অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ এরই মধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে এ মাইলফলক অতিক্রম করে দেশটি। বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারের বাজেটের ওপর চাপও বাড়ছে।
এছাড়া বাজেট ঘাটতি বাড়ার আরেকটি কারণ শুল্ক থেকে নিট আয় কমে যাওয়া। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের বড় একটি অংশ বাতিল হয়ে যায়। ফলে শুল্ক বাবদ আদায় করা অর্থের একটি অংশ ফেরত দিতে হয় আমদানিকারকদের। ২০২৬ অর্থবছরে এ বাবদ প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দেয়া হয়েছে। ফলে শুল্ক থেকে সরকারের নিট আয় কমেছে আগের বছরের তুলনায় ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
এদিকে ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়ে ৯১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধে এ ব্যয় বৃদ্ধির ভূমিকা কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির তুলনায় বাজেট ঘাটতির অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
