যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী স্যালাইন সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গু, জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ডের শয্যা ও মেঝেতে রোগীদের ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় স্যালাইন না পেয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। মোহনপুর গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আশিকুজ্জামানও একই অভিযোগ করেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইন মিলিয়ে আড়াই হাজারটির চাহিদা পাঠানো হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৫০০টি। গত এক সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ পাওয়া স্যালাইনের মজুতও প্রায় শেষের দিকে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অনুপ কুমার বসু জানান, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক ব্যক্তিকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জনবল সংকটের বিষয়ে ডা. অনুপ কুমার বসু বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের তিনটি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদ অবসরজনিত কারণে শূন্য রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয় আকতার হোসেন, আশীষ কুমারসহ তিনজনকে সামান্য সম্মানী দিয়ে জরুরি বিভাগের কাজে যুক্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মীরও বর্তমানে চাকরি নেই। ফলে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
রোগীর চাপ বৃদ্ধি, স্যালাইন সংকট ও জনবল ঘাটতি—সব মিলিয়ে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমএ
