নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্কযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, এর মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা বিশ্ববাসীর জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারত। এতে মানুষ দেখতে পেত, হাসানের মতো সন্ত্রাসী ও গুরুতর অপরাধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে।
তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অনেক ভালো ও সদিচ্ছাসম্পন্ন মানুষ আছেন, যারা সরাসরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে চান না।
ট্রাম্প আরো বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গুলি চালিয়ে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। তিনি জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা সরাসরি উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে পারবেন।
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর।
২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরো ৩২ জনকে আহত করেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার এ ঘোষণার পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের আইনপ্রণেতারাই এর সমালোচনা করেন। এরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ট্রাম্প।
হেগসেথ বলেছিলেন, সেনাসদস্যদের একটি দল গুলি চালিয়ে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। মানুষ যাতে সেই দৃশ্য দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রস্তাবিত সম্প্রচার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এ ধরনের সম্প্রচার হবে কি না, তা তিনি জানেন না।
সপ্তাহান্তে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তিনি বলেন, এক পক্ষ মনে করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখানো উচিত নয়। অন্য পক্ষের মতে, তা দেখানো হলে ভবিষ্যতে অন্যরা এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তারই।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচারের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও। তিনি লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলের সদস্য। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিও ভবিষ্যতে উগ্রপন্থীরা নিজেদের প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সম্প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব ভালোভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এমন সম্প্রচার দেখতে চাইবেন না বলেও জানান। জনসন আরো বলেন, এ প্রস্তাব নিয়ে তার দলের অন্য আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ হোয়াইট হাউসকে জানানো প্রয়োজন। কারণ, সবাই এ ধারণার পক্ষে নন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। তার নাম জন বেনেট। তিনি সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন। অস্ট্রিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ গুলি চালিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। এডি স্লোভিক নামের সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দায়ে সামরিক আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। পরে গুলি চালিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশ জার্নাল/জেডএইচ
