বাবু ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ছাত্রজনতা হত্যার একাধিক মামলা।
ইসলামিক পোশাক, মুখে লম্বা দাঁড়ি প্রথম দেখাতেই মনে হবে দেশের স্বনামধন্য কোন ইসলামিক স্কলার। হ্যাঁ এমন বেশেই তুরাগ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত ভূমি দস্যুতা করে আসছে মোশাররফ হোসেন বাবু।
সম্প্রতি তুরাগ থানাধীন নলভোগ এলাকায় সরকারের অধিগ্রহনকৃত পৃথকভাবে দুটি দাগের বিল আনুমানিক ১৮,০০০০০০০/- (আঠারো কোটি) টাকা জাল দলিলের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রমজান নামের একজন ভুক্তভোগী।
তিনি বলেন, নলভোগ এলাকায় আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি মোশাররফ হোসেন বাবু জাল দলিল বানিয়ে কতিপয় অসাধু ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রথমে খতিয়ানে বাবুর নাম সৃজন করেন। পরবর্তীতে তার কিছু প্রভাবশালী অনুসারীদের কাছে উক্ত জমি তিনি দাতা হিসেবে বিক্রি করে দেন। প্রকৃতপক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাতের উদ্দেশ্যে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশে এসব ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করেছেন।
এমনকি ডিসি অফিস এলএ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাও ব্যক্তিস্বার্থে জড়িয়ে পড়েছেন বাবুর অর্থ আত্নসাতের সাথে যা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মোশাররফ হোসেন বাবু তুরাগ থানাধীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ছাত্রজনতা হত্যার একাধিক মামলা। তিনি তুরাগ থানা এলাকায় গড়ে তুলেছেন ৪০-৫০ জনের একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী। বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত এই বাহিনী অন্যের জমি দখল করে লাগিয়ে দেয় সাইনবোর্ড। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় এলাকার চিহ্নিত কিছু আওয়ামী গডফাদার ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু সদস্যকে সবসময় অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলতেন। ফলে ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়া তো দূরে থাকুক উল্টো মামলা-হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হতেন।
তবে ৫-ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি কিছুদিন গাঁ ঢাকা দেন। কিন্তু টাকা থাকলে বাঘের চোখও কেনা যায় এমন প্রবাদই সত্য হয়েছে বাবুর ক্ষেত্রে। সম্প্রতি তিনি তুরাগ থানাধীন বিএনপি-জামাতের কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতায় আবারও তার পূর্বের রাজত্ব ফিরে পেয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর সহযোগিতায় বাবু ভুক্তভোগী রমজানকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
এছাড়া তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নামধারী কিছু সন্ত্রাসীর মাধ্যমে রমজানকে মারধর ও তুলে নেয়ার চেষ্টা করে।এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন রমজান। তবে জাল দলিল দিয়ে মালিক সেজে ডিসি অফিস থেকে ভুক্তভোগী রমজান গংয়ের জমির ক্ষতিপূরণের আনুমানিক ১৮,০০০০০০০/- (আঠারো কোটি) টাকা নেয়ার পর বাকী আনুমানিক ৮,০০০০০০০/- (আট কোটি) টাকা নিতে এসে মিডিয়ার জালে ধরা খেয়েছেন বাবু।
পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক বরাবর বিলটির বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি প্রদান করেন। রমজান আপত্তিতে বলেন, ঢাকা জেলার তুরাগ থানাধীন সিএস-১৩৬ নং খতিয়ানের সিএস-১২৮, ১২৯, ২০৭ নং দাগসহ অপরাপর দাগের ভূমিতে জনৈক মৃত আইনুদ্দিন শেখ এর পুত্র হোসেন আলী শেখ, একাব্বর শেখ, জব্বার আলী শেখ এবং স্ত্রী বানু বিবি মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে এসএ ২৭৬ ও ২৮০ নং খতিয়ানের এসএ-১২৮, ১২৯, ২০৭ নং দাগের ভূমি একাব্বর শেখ এর পুত্র এবং আমি দরখাস্তকারীর বাবা আব্দুল গফুর এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে নলভোগ মৌজার আরএস-২৩৫ ও ২৫১ নং খতিয়ানের ২২৭, ২২৮ ও ২২৯ নং দাগের ভূমি সিটি-৩৩৭ নং খতিয়ানের ১০৫৭ নং দাগে আমেনা বেগম, ১০০০ খতিয়ানে ১০৫৯ দাগে মিন্নত আলী ৭০১/১ খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে নাজিম উদ্দিন গং ৫৭০ নং খতিয়ানে ১০৫৭ নং দাগে গোলেনুর বেগম গং এবং একই দাগে ৫৯১ নং খতিয়ানে ছায়েদ আলী, ৭৫৯ নং খতিয়ানে ১০৫৭ ও ১০৫৮ নং দাগে নাগর আলী গং, ৮৫১ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে ফরিদ আহম্মেদ, ১০৫৭ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে সাইজুল হক গং, ১৫২০ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে তাহের আলী গংদের নাম ভুলবশত রেকর্ডভুক্ত হয়।
অত্র দাগের সম্পত্তি আমরা উপস্থিত না থাকায় আমার নামে সিটি রেকর্ড হয় নাই বিধায় আমরা উল্লেখিত ভূমির মালিকানা ও রেকর্ড সংশোধনের ঢাকা সিটি রেকর্ড সংশ্লেষনের বিষয়ে ঢাকা জেলার বিঙ্গ ১ম যুগ্ম জেলা জজ, আস্বপ্নত্বে দেওয়ানী ৪৬৩/২০২১ নং মোকদ্দমা চলমান। বর্তমানে নিন্ম তফসিল বর্ণিত ভূমি ঢাকা ওয়াসা উত্তরা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন।
উল্লেখিত ভূমির মালিকানা ও সিটি জরিপ সংশোধনের বিষয় ঢাকা জেলার বিঙ্গ ২য় যুগ্ম জেলা জজ, ১ম আদালত দেওয়ানী ৫১৮/২৪ চলমান এবং সিআর মামলা নং ৮৮৩/২৫ (কোতোয়ালি থানা) তদন্তাধীন। বর্তমানে নিন্ম তফসিল বর্ণিত ভূমি ঢাকা ওয়াসা, উত্তরা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগারের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। আমি এবং অপর পক্ষ ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলে আমরা বিগত ১০-০২-১৯২৭ ইং তারিখের দলিল নং-১০২২ এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন করলে বিগত ১৯-০৫-২০২৫ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রেশন শাখা হতে একখানা প্রতিবেদন দাখিল করেন যে অত্র দলিল দ্বারা অত্র দাগের কোন সম্পত্তি বিক্রয় করা হয় নাই বিধায় উক্ত মোকদ্দমা চলমান থাকা অবস্থায় উল্লেখিত দাগের ভূমির অধিগ্রহণকৃত টাকা প্রদান করা হইলে আমি দরখাস্তকারীসহ আমার ছোট বোন কহিনুর অপূরনীয় ক্ষতির মুখে পড়বো। আমার অত্র বিষয় নিয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকায় বিগত ০৫-০৫-২০২৬ ইং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শাখা-৫ এর একখানা আদেশ প্রদান করেন। যেহেতু মোকদ্দমা সমূহ বিচারাধীন আছে বিধায় অত্র মোকদ্দমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা একান্ত আবশ্যক, অন্যথায় আমার অপূরনীয় ক্ষতি হবে। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে মোশাররফ হোসেন বাবুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এমনকি পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জাল দলিল দিয়ে জমির ক্ষতিপূরণের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাতের ব্যাপারে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের এখনো আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
