জামালপুরের মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরিচগাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচখেতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করলেও একের পর এক গাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাত কৃষক। বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না তাঁরা। কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত খেত দেখতে এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা সরেজমিনে আসেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিনোদটঙ্গী এলাকার মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে অনেক গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। কিছু গাছ আবার পুরোপুরি মরে গেছে। গাছ বাঁচাতে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। তবে তাতে কোনো সুফল মিলছে না। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। গাছে মরিচ আসতে শুরু করার পর রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু গাছ মরে যাওয়ায় এখন সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে।
আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে মরিচগাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছি না। কৃষি অফিস থেকে কেউ আমাদের খোঁজখবর নেননি।’
আরেক কৃষক এনছ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি খেত পরিদর্শনে আসেননি। তাঁর অভিযোগ, গাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি জানালে সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে তাঁকে নানা প্রশ্ন করা হয় এবং কৃষকদেরই দোষারোপ করা হয়।
কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামও তাঁদের মরিচখেত নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের ভাষ্য, গাছে কী ধরনের রোগ হয়েছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁদের।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, তিনি সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজ করছেন। তাঁর মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নের খুদ্দ জোনাইল এলাকায়। পাশাপাশি বিনোদটঙ্গী এলাকাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মরিচখেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে আসতে বলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।