আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘হাসপাতালে ভর্তি থাকলেই তো বেশ ভাল হত।’ দুর্গাপুজো চলাকালীন হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ স্পেশাল মেনুর বহর দেখে এমন হালকা রসিকতা ছুড়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
দুর্গাপুজোর সময় উৎসবের ক’টা দিন হাসপাতালের চার দেওয়ালের মধ্যে থাকা রোগীদের মুখে এক চিলতে হাসি আর ঘরের খাবারের স্বাদ এনে দিতে এলাহি ভোজের আয়োজন করেছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একটু মেনুটা জেনে নেওয়া যাক। তার আগে আরও একবার বলে রাখা ভাল, এই মেনু কিন্তু পাইস হোটেল নয়, হাসপাতালের। নবমীর দুপুরে রোগীদের পাতে ছিল ধোঁয়া ওঠা ভালো চালের সুগন্ধি ভাত, সঙ্গে মুসুর ডাল, মিক্সড ভেজ, সুস্বাদু রুই মাছের কালিয়া আর জিভে জল আনা চাটনি।
বিজয়া দশমীতে উৎসবের সমাপ্তি টানতে দুপুরের পাতে থাকছে কচি মাংসের সুস্বাদু পদ, সঙ্গে মুখমিষ্টি করার জন্য শেষপাতে মিষ্টির আয়োজন। শারদোৎসবের দিনগুলোতে হাসপাতালের চিরাচরিত ডায়েট কার্যত বদলে ফেলা হয়েছিল।
কোনওদিন রোগীদের পাতে পড়েছে মুগ ডাল, নবরত্ন তরকারির সঙ্গে লোভনীয় মাছের কালিয়া বা নিরামিষাশীদের জন্য মাখামাখি পনির। আবার অষ্টমীর দিনে রীতি মেনে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল খাঁটি নিরামিষ পদ।
মেনুতে ছিল ফুলকপি-আলুর তরকারি ও পনির মশলা। রাতের বেলাতেও থাকছে ডিমের কারি থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক মিক্সড ভেজের ব্যবস্থা। রোগী ও পথ্যের নিয়মের সঙ্গে আপস না করেই খাবারের তালিকায় এই বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হয়েছে রোগীদের খাদ্যখাতে হাল আমলে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
অসুস্থতার জন্য যাঁরা পুজোর ভিড়ে ঠাকুর দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত, হাসপাতালের এই আন্তরিক ও মানবিক স্পর্শ তাঁদের মন খারাপের রেশ কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে। আর এমন ভাল আয়োজন দেখে রোগীর আত্মীয়দের পাশাপাশি রসিকজনেরাও বলছেন, ‘পুজোর ক’টা দিন অন্তত এমন হাসপাতালে থাকা ‘মন্দ’ নয়।
