Published on
:
2 min read
সাজতে ভালোবাসতেন। মিষ্টি স্বভাবের জন্য সকলের প্রিয় পাত্রী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতেন। সেই সব ছবি, ভিডিয়ো শেয়ার করতেন নিজের সমাজমাধ্যমের প্রোফাইলে। সেই মেয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেবেন? কেন নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা ভাববেন? মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। পাড়ার পুজোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন স্নেহা চক্রবর্তী। তাঁর মৃত্যুতে পুজো কমিটির সকলের মন ভারাক্রান্ত। পুজো হবে, তবে কোনও জৌলুস থাকবে না, বাতিল সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী বলছেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।’ পেশায় পুলিশকর্মী ধ্রুব চক্রবর্তী বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়েছেন বলেও জানান।
মেদিনীপুরের ডাকবাংলো রোডের বাসিন্দা স্নেহার সঙ্গে যমুনা বালির বাসিন্দা রণদীপ জানার বিয়ে হয় বছর খানেক আগে। স্নেহার বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। BMW গাড়ি চাই— এই দাবিতে স্নেহার বাপের বাড়ি থেকে দশ লক্ষ টাকা আনতে চাপ দেয় রণদীপ। এই গাড়ি কেনা নিয়ে স্নেহার সঙ্গে রণদীপের প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। স্নেহা গাড়ি কিনতে নিষেধ করলেও গত বুধবার গাড়ি কিনে নিয়ে আসেন রণদীপ। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে স্নেহার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
স্নেহা চক্রবর্তী মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে HR পদে চাকরি করতেন। স্নেহার মিষ্টি ব্যবহারের জন্য সহকর্মীদের কাছে খুব পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন। এক সহকর্মী বলেন, ‘স্নেহা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি হাতের লেখাও খুব সুন্দর।’ কলকাতার একটি সংস্থা থেকে হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট পড়াশোনা শেষ করে মেদিনীপুরের হাসপাতালে চাকরিতে যোগ দেন। স্নেহার এমন আচমকা মৃত্যু কোনও সহকর্মী মেনে নিতে পারছেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন স্নেহা। বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট করতে, রিল বানাতে ভালবাসতেন। মাত্র কয়েকদিন আগে ১ অক্টোবর তিনি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘rich in life because this is how may man celebrate me’। ১ মে নিজের ফেসবুক পেজে স্বামী রণদীপের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে স্নেহা লিখেছেন, ‘you make each day feel like a blessing’। নিজের জীবনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত সুন্দর করে সাজিয়ে পোস্ট করতেন ফেসবুকে। বিয়েতে মেহেন্দি করা বা সিঁদুর দান– সবই সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে পোস্ট করতেন সমাজমাধ্যমে। স্নেহার ফেসবুকের কভার পিকচারে এখনো জ্বলজ্বল করছে স্নেহা ও তার বরের ছবি। সুখী জীবনের পিছনেই কি ছিল কলহের অন্ধকার? প্রশ্ন উঠেছে।
স্নেহার বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে সেফটিপিন দেখলেও ভয় পায়। সে কখনই সুইসাইড করতে পারে না। ওকে মেরেই ফেলা হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন এর যেন সঠিক বিচার হয়।
