কালবেলা · সাধারণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত
১২/১০/২০২৬

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ শিক্ষক। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল একজন কালজয়ী কবি ও বিশ্বমানবতাবাদী মনীষীর প্রতি অবমাননাই নয়, বরং বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপরও আঘাত।
বিবৃতিতে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মহীরুহ। তার সৃষ্টিকর্ম বাঙালির আত্মপরিচয় নির্মাণে, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে এবং বিশ্বমানবতার বাণী প্রচারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি কেবল বাঙালির নন, সমগ্র বিশ্বের সাহিত্য ও মননজগতের এক অমূল্য সম্পদ। তার সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা, সৌন্দর্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে আসছে।
শিক্ষকরা বলেন, কোনো ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন কিংবা চিন্তাধারার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু মতভিন্নতার প্রকাশ কখনোই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক আচরণ কিংবা মনীষীদের প্রতিকৃতি বিকৃত করার মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। সৃষ্টিশীল চর্চা, বুদ্ধির বিকাশ এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রসারের মধ্য দিয়েই এ ধরনের সংকীর্ণতার যথার্থ জবাব দিতে হবে বলে মনে করেন বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকরা।
ঢাবি শিক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আবশ্যক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতার চর্চা জোরদার করাও জরুরি। অনতিবিলম্বে এসব ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও দায়দায়িত্ব যথাযথভাবে নিরূপণ করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে বিবৃতিতে দেশের সব প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও মুক্তবুদ্ধির মানুষকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মননশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকরা হলেন- অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মো. আফজাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার), অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধুরী, অধ্যাপক আবু হোসেন মুহাম্মদ আহসান, অধ্যাপক ড. সমীর কুমার শীল, অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আক্তার, অধ্যাপক ড. জাভীদ ইকবাল বাঙালী, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মুজিব, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. সুব্রত সাহা, ড. আমীর হোসেন, ড. নীলিমা আকতার, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. রাফিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. সামছুজ্জোহা, অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম খাদেমুল হক, অধ্যাপক ড. তাপস কুমার বিশ্বাস, ড. এমএল পলাশ, ড. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন মোল্লা, মো. রাকিবুল হাসান, ড. ইসরাত জাহান, ড. মো. হাসান ফারুক, ড. মো. নাসির উদ্দিন, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান, মো. কামরুল হাসান, ড. সিদ্ধার্থ দে, মাহমুদুর রহমান, ড. মো. রায়হান সরকার, মো. ইব্রাহীম মিয়া, ড. আব্দুল কাদের মহিউদ্দিন, ড. মির শরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. কে এম সালাহ উদ্দীন, অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান, অধ্যাপক ড. এএম আমজাদ ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗