ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দুই যুবকের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা গ্রহণের পর জাল ভিসা দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মানবপাচার মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোঃ কামাল হোসেন (৪৭), পিতা- মৃত আঃ রব, সাং- বড়াইয়া, কৃষ্ণপুর, থানা- চান্দিনা, জেলা- কুমিল্লাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ও তাঁর পরিচিত অপর এক যুবককে ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। এ জন্য প্রত্যেকের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বাদী ও তাঁর সঙ্গী বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টিকিট ও ইতালির ভিসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁরা ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট যাচাই করে। এ সময় পাসপোর্ট সঠিক থাকলেও পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির শেনজেন ভিসা জাল বলে জানানো হয়। পরে ইতালির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের আটক করে। আটক থাকার পর গত ২৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা তাঁদের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনার বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বাদী ডিএমপির বিমানবন্দর থানার মামলা নং-২৭, তারিখ- ৩০/০৫/২০২৬ খ্রি. ধারা- ৬/৭/১৬/১৯ মানব পাচার ও অভিবাসী প্রতিরোধ অধ্যাদেশ তৎসহ ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/১০৯ পেনাল কোড রুজু করেন ।
মামলার তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোঃ কামাল হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণ, অর্থের লেনদেন ও বণ্টন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
