ফুটবলে রেফারির পকেট থেকে হলুদ কিংবা লাল কার্ড বের করার পরিচিত দৃশ্য বদলে যেতে পারে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। ঐতিহ্যবাহী কার্ডের পরিবর্তে এবার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ফোনের মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তবে নতুন এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলেও এর কার্যকারিতা ও দৃশ্যমানতা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
গত ১৫ অক্টোবর উরুগুয়ের কোপা এউএফ উরুগুয়ে টুর্নামেন্টে ন্যাসিওনাল ও রেন্তিস্তাসের ম্যাচে প্রথমবারের মতো এই ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। ম্যাচটিতে ন্যাসিওনাল ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল। ওই ম্যাচে রেফারি প্রচলিত হলুদ ও লাল কার্ডের পরিবর্তে ব্যবহার করেন বিশেষভাবে তৈরি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
বিজ্ঞাপন
ডিভাইসটিতে হলুদ ও লাল কার্ড দেখানোর জন্য রয়েছে আলাদা বোতাম। মাঠে কোনো খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলে রেফারি সেখান থেকেই তথ্য নথিভুক্ত করতে পারেন। শুধু কার্ড দেখানোই নয়, গোল, খেলোয়াড় পরিবর্তন, পেনাল্টি এবং ম্যাচের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও এতে রেকর্ড করা যায়।
এরপর ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব তথ্য উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কমেট (COMET) সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়। ফলে ম্যাচ চলাকালে রেফারিকে আলাদা করে কাগজে ঘটনাগুলো লিখে রাখতে হয় না। ম্যাচ শেষে সেই তথ্য আবার কম্পিউটার বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় স্থানান্তরের প্রয়োজনও কমে আসে।
বিজ্ঞাপন
নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য রেফারির ম্যাচ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা। মাঠে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তা নথিভুক্ত করা গেলে ম্যাচ শেষে প্রতিবেদন তৈরির সময় কম লাগবে। পাশাপাশি তথ্য সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কাজও আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
ডিভাইসটির আরেকটি সুবিধা হলো, তথ্য পাঠানোর জন্য ওয়াইফাই সংযোগের প্রয়োজন হয় না। ফলে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটি ব্যবহার করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানো সম্ভব।
তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এর কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও মাঠে কার্ডের রং কতটা স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্টেডিয়ামের কিছু জায়গা থেকে ডিজিটাল ডিভাইসে দেখানো হলুদ ও লাল রং আলাদা করে চেনা কঠিন ছিল।
বিজ্ঞাপন
এর আগের একটি পরীক্ষাতেও আলোর কারণে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ফলে প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে চালু করার আগে কার্ডের রং আরও স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাঠের বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াড়, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন সহজেই কার্ডের রং বুঝতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত জানানোর ক্ষেত্রে হলুদ ও লাল কার্ড দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত প্রতীক। তাই সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালু করতে হলে শুধু তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা থাকলেই হবে না, মাঠে কার্ড দেখানোর প্রচলিত দৃশ্যমানতাও বজায় রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন
উরুগুয়েতে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে রেফারিদের কাজ আরও সহজ করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির ব্যাপক ব্যবহার নির্ভর করবে এর নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং মাঠে কার্ডের রং স্পষ্টভাবে দেখানোর সমস্যার সমাধানের ওপর।
আইএইচএস/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
