পুজো নিয়ে নিজের অনুভূতি জানালেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়। বলেলন, প্রত্যেক বাঙালির মতোই দুর্গাপুজোর অপেক্ষায় থাকি সারা বছর। ছোটবেলায় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর তো অবশ্যই দেখতাম। আমি তখনও ভিড় পছন্দ করতাম, এখনও ভিড় ভালবাসি। সমস্ত ধরনের মানুষ, যাবতীয় বাধাবিপত্তি পেরিয়ে মা বা মেয়ের বাড়িতে আগমনের আনন্দে মেতে ওঠে এই পাঁচ দিন। আমার কাছে দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এটাই। ফলে আমার ওই ভিড়টা ভীষণ ভাল লাগে। ওটাই তো পুজোর মূল উপভোগ্য বিষয়।
অষ্টমীর দিনে অঞ্জলি দিতেই হবে, এমন কোনও গতে বাঁধা নিয়ম আমি মানি না। প্রতিদিনের যে আলাদা করে পরিকল্পনা করে রাখি, তেমনও নয়। পুজোটা আনন্দ করে কাটাই, পরিবার-বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কাটাই। প্রতিটি বাঙালি যেমন পুজোর ক’টা দিনের জন্য মুখিয়ে থাকেন, আমিও তা-ই থাকি। আর পুজোর সময়ে ছবি মুক্তি পেলে বাঙালি সিনেপ্রেমী সেটা বাড়তি উৎসাহে উপভোগ করেন, ফলে সেই ভালো লাগাটাও থাকে।
পুজোয় ছবিমুক্তি বা প্রচার নিয়ে ব্যস্ততা নতুন নয়। প্রতিবারের মতোই এ বারেও আমি উত্তেজিত। তবে এ বারের ছবিটি খানিক অন্যরকম। ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ অবশ্যই পুজোর ছবি। তবে তার থেকেও বেশি, এটা আমাদের গল্প। আমাদের পূর্বসূরীদের গল্প, আমাদের দেশের গল্প, দেশের স্বাধীনতার গল্প। এই ছবির মাধ্যমে একাধিক মহীরূহের কথা বলা হয়েছে। অবশ্যই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন, তার সৃষ্টি করা চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতান্তর দেখানো হয়েছে। যে সময়ের কথা এই ছবিতে দেখা যাবে, তাতে ‘পথের দাবী’তে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সব্যসাচীর লড়াই আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে শরৎচন্দ্রের লড়াই— দুই-ই ফুটে উঠছে। সব মিলিয়ে এই ছবিটা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কাজ, গর্বের কাজও বটে।
পুজোর আবহে মানুষ আনন্দ করুন, ছবি দেখুন— এটাই চাইব। সবশেষে মায়ের কাছে এটাই প্রার্থনা করব, মানুষ যেন একটু শান্তিতে থাকেন। তা হলেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা যায়। মা দুর্গার হাতে অস্ত্র হিসাবে ‘সহমর্মিতা’ যোগ করতে চাই। তা ছাড়া, লোকের দোষ আমরা বরাবরই বেশি দেখতে পাই। আমার মনে হয় মা দুর্গার নজর দেওয়া উচিত, যাতে আমরা প্রত্যেকে আগে নিজের দোষ দেখি, তার পরে অন্যেরটা।
