কক্সবাজারের ফুলছড়ি রেঞ্জে বন বিভাগের জমিতে মার্কেট নির্মাণ ও বাড়িঘর করতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণের জন্য ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফকিরা বাজারের উত্তর-পশ্চিম দিকে বন বিভাগের জমিতে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
সরেজমিনে ওই এলাকায় বন বিভাগের জমিতে নির্মিত মার্কেট দেখা গেছে। তবে স্থাপনাটি নির্মাণের অনুমোদন, জমির নথিপত্র এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। তাঁরা জমির মালিকানা ও দাপ্তরিক নথি যাচাই, নির্মাণের অনুমোদন পরীক্ষা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আগেও বনভূমি ও গাছ কাটার অভিযোগ
ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ আগেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নাপিতখালী বিটের গ্রামপাড়া ও হাতির ডুরি পাহাড় এলাকায় গর্জনগাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
একই এলাকার বনভূমি ও বনসম্পদ নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠায় নজরদারি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অফিসে না পাওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলছড়ি রেঞ্জ অফিসের দ্বিতীয় তলায় ব্যক্তিগত কক্ষ তৈরি করে সেখানে বিশ্রাম নেন ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমান। এতে সেবা নিতে আসা লোকজন অনেক সময় তাঁকে না পেয়ে ফিরে যান।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিক সাংবাদিক বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোন ধরেননি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘আমি নতুন এসেছি, এসবের তথ্য নেই’
ফুলছড়ির সহকারী বনসংরক্ষক শহিদুল হাসান শাকিল বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। পাহাড় কাটা কিংবা মার্কেট নির্মাণের কোনো তথ্য নেই। তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারুফ হোসেন বলেন, বন ধ্বংসের যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কুদ্দুসুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগের জমিতে মার্কেট নির্মাণ, পাহাড় কাটার অভিযোগ এবং বাড়িঘর তৈরিতে অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে জমির নথি, নির্মাণের অনুমোদন ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
