
সখীপুরে ২৪ দিন পর জঙ্গলে মিলল কিশোরের খণ্ডবিখণ্ড দেহাবশেষ, গ্রেপ্তার ২
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের ২৪ দিন পর কিশোর অটোভ্যানচালক সবুজের (১৪) মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার আবু হানিফের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়া (৩৬)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আন্দি এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে লাশের খন্ডবিখন্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। এসআরবি-১৪-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহত সবুজ সখীপুর পৌরসভার কাহারতা এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে। সে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সবুজ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন (২৭ সেপ্টেম্বর) সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।
একইদিন গোপালপুর উপজেলার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় হাবিব ও শাহীন পালিয়ে যান বলে এসআরবি-১৪-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় সবুজের বাবা বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর সখীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর হাবিব ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল, মাথার খুলি, চুল ও হাড় উদ্ধার করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্য প্রাণী খেয়ে ফেলার কারণে মরদেহের এসব অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলে ছেলের জুতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সিরাজ মিয়া। তিনি বলেন, “ওরা আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। ওদের আমি ফাঁসি চাই।”
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। এসআরবি-১৪ জানায়, গ্রেপ্তার হাবিবকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহীনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
