কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায় মাদক কারবারিদের মদদ দেওয়া সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বুলবুল মিয়া নামে যুবকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত বুলবুল (৪০) উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের মৃত গোলাপ মিয়ার ছেলে। অভিযোগ উঠেছে সে পুলিশি অভিযানের তথ্য পাচারের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করাই তার মূল পেশা।
দীর্ঘদিন যাবত বুলবুল মিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইউপি সদস্য মানিক মিয়া ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত বুলবুল এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল ব্যবহার করেন। তার ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখেন।
শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবদল আহ্বায়ক জাকির হোসেন বলেন, বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছেন। অতীতেও তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে পুলিশি হয়রানির নেপথ্যেও তার হাত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বুলবুল যে পুলিশের নামে নিয়মিত টাকা তোলেন, সে বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন।
ইউনিয়ন যুবদল সদস্য সচিব শিপন মিয়া বলেন, বুলবুল মিয়াকে ছাড়া পুলিশ দলীয় কোনো নেতাদের চেনেনা এমনকি চেনার চেষ্টাও করে না। এই সুযোগে বুলবুল পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে হয়রানি করে। একটা তুচ্ছ ঘটনা ঘটলে বুলবুল প্রশাসন পর্যন্ত নিয়ে সে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব এলাকা কোন ঘটনা ঘটলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচায় করার জন্য।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করে বলেন, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলেই বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এমন গুঞ্জন রয়েছে মানুষের মুখে মুখে। পুলিশের অভিযানের আগাম বার্তা দিয়ে তিনি মাদক কারবারিদের দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তাদের মামলায় ফাঁসানো বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বুলবুল মিয়া বলেন, পুলিশ আমার গ্রামে ঢুকলে আমাকে ফোন দেয় এটি সত্য। তবে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি বা টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে শ্রীনগর ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, বুলবুলের বিষয়ে পুরো গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। সে থানায় আতাত করে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়া ও ধরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। শ্রীনগর গ্রামের আমরা জনপ্রতিনিধিদের কোন রকম তোয়াক্কা না করে বুলবুল তার আধিপত্য বহাল রেখেছে। মাদক কারবারিদের প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে বুলবুল। আমরা চাই বুলবুলকে আইনের আওতায় আনা হোক।
হাজী দৌলত মিয়া বলেন, বুলবুল টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ব্যবহার করে কাজ করে দেন। আমার চুরি হওয়া মোবাইল ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করে দিয়েছেন।
মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে এক মেয়েকে ভাগিয়ে আনলে বুলবুল আমার ছেলের কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ৫ হাজার টাকা চায়। ভয়ে আমরা স্ত্রী বুলবুলকে ৫ হাজার টাকা দেয়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে এই ধরনের চক্রের চাঁদাবাজি একদিকে যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
