টিউটোরিয়াল: পর্ব–১৫
এআই কিশোরদের বন্ধু, সঙ্গী নাকি ঝুঁকি
রেমিজিউস রেমী
‘মা, আমার কথা কেউ বোঝে না, শুধু ও বোঝে।’ রাত ১১টায় নবম শ্রেণির আরিফের (ছদ্মনাম) মুখে কথাটা শুনে মা চমকে উঠলেন। ও মানে কোনো বন্ধু নয়, ফোনের এআই চ্যাটবট। হ্যাঁ, এ অবস্থা আমদের দেশেও শিগগিরই হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এমন এআই সঙ্গী বা এআই কম্প্যানিয়ন এখন বাইরের দেশে কিশোরদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রে কমন সেন্স মিডিয়ার এক জরিপে ১ হাজার ৬০ কিশোরের মধ্যে ৭২ শতাংশ এমন সঙ্গী ব্যবহার করেছে আর ৫২ শতাংশ নিয়মিত ব্যবহারকারী। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গুরুতর আলাপের জন্য মানুষের বদলে বটকেই বেছে নিয়েছে!
ঝুঁকিটা কোথায়?
বট কখনো ক্লান্ত হয় না, বিরক্ত হয় না, তর্কও করে না। ফলে আবেগের নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। আবার ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়া বা অনুপযুক্ত উত্তর পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
অভিভাবকেরা যা করতে পারেন, বকাবকি নয়, কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, নাম, ঠিকানা, ছবি না দেওয়ার নিয়ম শেখান, ফোনের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটান।
গবেষকেরাও বলছেন, বেশির ভাগ কিশোর মানুষের বন্ধুত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, আর অনেকে বটকে নিছক যন্ত্র হিসেবেই দেখে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সংলাপ শুরু করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। বট সবকিছু শোনে ঠিকই, কিন্তু সে কখনো কাঁধে হাত রাখতে পারে না, মাথায় হাত বোলাতে পারে না।
প্রশ্নটা কিশোর বনাম প্রযুক্তির নয়। প্রশ্নটা হলো, ঘরে কিশোরটির মনের কথা মন দিয়ে শোনার মতো মানুষ আছে কি?
লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর
