- ৯টি ইউনিয়নে ১৮১ জনের আবেদন।
- ইউএনও কার্যালয় থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ।
- অভিযোগের তদন্ত ও তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি।
আব্দুর রহিম পায়েল, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সারের ডিলার (প্রস্তাবিত) নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজনেরা-যাঁরা ব্যবসায়ী নন- বেশি নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বঞ্চিতদের অনেকেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (রংপুর-১) রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমি দেশে ছিলাম না, তবুও আমি ইউএনওকে বলেছিলাম যাচাই-বাছাই কমিটিতে সব ধরনের লোককে রাখার জন্য। প্রয়োজন হলে আমাদের দলের (জামায়াত) দুজনকে রাখেন, বিএনপির দুজনকে রাখেন যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নিয়োগ পান।’
রায়হান সিরাজী আরও বলেন, ‘ইউএনও আমাকে বললেন, ওপর থেকে অনেক চাপ আপনাদের কাউকে রাখা যাবে না। আমার প্রশ্ন, ওপর থেকে কার চাপ। কিসের চাপ। সেটাও ইউএনওকে ক্লিয়ার করা প্রয়োজন।’
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার ৯টি ইউনিয়নে সার ডিলার হতে ১৮১ জন আবেদন করেছেন। গত শুক্রবার জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির প্রস্তাবিত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, যথাযথ আবেদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও তাঁরা তালিকায় স্থান পাননি। তালিকায় রয়েছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজনেরা। যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শনে তাঁদের গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যাওয়ার পর তাঁরা বাদ পড়েন। এ বিষয়ে তাঁরা একাধিকবার ইউএনও কার্যালয় ও উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রহিম, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের আবু সায়েম মিন্টুসহ অর্ধশতাধিক আবেদনকারীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রত্যেকে সরকার নির্ধারিত শর্ত মেনে আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর গুদামঘর পরিদর্শন করা হয়। তখনো কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। কিন্তু কাগজপত্র ইউএনওর কার্যালয়ে যাওয়ার পর সবকিছু পাল্টে যায়।
আবেদনকারীরা বলেন, এভাবে নিয়োগ দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে। যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন তাঁরা কখনোই ব্যবসা করেননি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
কমিটির সভাপতি এবং ইউএনও জেসমিন আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। পরে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।

