২১ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২২ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
আড়াইশ পেরোনো লক্ষ্য দেখলেই যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা বেরিয়ে পড়ে, সেখানে প্রস্তুত হতে হবে তিন শ রান তাড়া করার! বর্তমানের সঙ্গে চাওয়ার ব্যবধানটা বড়ই। তবে বিশ্বকাপের কথা ভাবলে এই দুর্বলতা কাটানোর বিকল্প দেখছেন না হাবিবুল বাশার। তার আগে খুঁজে বের করতে চান, রান তাড়ায় বাংলাদেশ আসলে কোথায় হেরে যাচ্ছে। মানসিক চাপে, নাকি দক্ষতার ঘাটতিতে।
সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভঙ্গুর চেহারা দেখা গেছে। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ থেমেছে ১৭২ রানে, হেরেছে ৯৯ রানে। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ১৬০ রানে অলআউট হয়ে সেই ম্যাচে হারতে হয়েছে ৭ উইকেটে। দুই ম্যাচে দুই ধরনের পরিস্থিতি, শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতায় জয়হীন বিদায়।
টেস্ট দল নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ানডের এই অস্বস্তির প্রসঙ্গও এসেছে বাশারের সামনে। তার পর্যবেক্ষণে, আগে ব্যাট করে একটি ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারলে বাংলাদেশ যতটা স্বচ্ছন্দ, প্রতিপক্ষের রান পেরোনোর দায়িত্ব পেলে ততটা নয়।
বাশার বলেন, ‘পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, আমরা প্রথমে ব্যাটিং করে ২৮০-২৯০ রান তুললে অধিকাংশ ম্যাচই জিতি। কিন্তু আড়াইশো বা তার বেশি রান তাড়া করতে গিয়েই আমরা বিপদে পড়ছি।’
কেন এমন হচ্ছে, তার উত্তর অবশ্য এখনই নিশ্চিত করে দিতে চান না তিনি। লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ের চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে, নাকি ব্যাটারদের খেলাতেই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, আগে সেটি বুঝতে হবে। বাশারের ভাষায়, ‘এটা কি মানসিক চাপের কারণে, নাকি টেকনিক্যাল বা স্কিলের ঘাটতি, সেটা চিহ্নিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
এই অনুসন্ধানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও। বাশার বলেছেন, ‘বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে, ৩০০ রান তাড়া করার প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে। আগামী ৬ মাস এই সমস্যা সমাধানেই কাজ করা হবে।’
তবে রান তাড়ার সমস্যাকে শুধু শেষ দিকে ম্যাচ বের করতে না পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন না তিনি। তার কথায়, ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশ এমন জায়গায় চলে যাচ্ছে, যেখান থেকে মিডল অর্ডারের কাজ হয়ে উঠছে বিপর্যয় সামলানো। রান বাড়ানোর আগে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তাদের।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করা মিডল অর্ডার ব্যাটাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেন থিতু হতে পারছেন না, এমন প্রশ্নে বাশার তাই নজর ফেরালেন টপ অর্ডারে। বলেছেন, ‘মূল সমস্যা মিডল অর্ডারে নয়। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই ২ বা ৩ উইকেট পড়ে গেলে মিডল অর্ডার সবসময় অতিরিক্ত চাপে পড়ে যায়।’
লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। বাশারের ব্যাখ্যা, তারা যখন নামছেন, তখন অনেক সময় ধসে যাওয়া ইনিংস মেরামত করতে হচ্ছে। ওপেনিং জুটি ভালো ভিত দিতে পারলে পরের ব্যাটারদের পক্ষে স্বচ্ছন্দে বড় সংগ্রহ গড়া সহজ হবে।
সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যাটিং নিয়ে হতাশা থাকলেও খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না বাশার। তার বিশ্বাস, এই ব্যাটাররাই ঘুরে দাঁড়াবেন। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য শুরুর উইকেট ধরে রাখা থেকে লক্ষ্য অনুযায়ী ইনিংস এগিয়ে নেওয়া, উন্নতি দরকার পুরো পথেই। আপাতত সেই কাজের জন্য আগামী ছয় মাসের কথা বলছেন বাশার।
