শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ রাত
নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে খুনাখুনির ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ছয়জন খুন হয়েছেন।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় জহির ফকির (৫০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নিজের ফার্মেসির দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জহির ফকিরের পথরোধ করে। এ সময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন বলেন, আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবারক হোসেনের সঙ্গে তার মামার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। এর আগেও মোবারক ও তার লোকজন তার মামা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জহির ফকির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
শেরপুর : শেরপুরের শ্রীবরদীতে গতকাল ড্রামের ভিতর থেকে ঝিনুক (২৮) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পিতার নাম সাকিল, তার বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গীতে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কুড়িকাহুনিয়া ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া বাজারসংলগ্ন সেতুর নিচে কুড়েমনি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওই নারীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, খুনি এই নারীকে খুন করে ড্রামের মধ্যে ভরে সেতুর নিচে রেখে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেতুর নিচে খালের মধ্যে একটি ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের মুখ খোলা থাকায় এর ভিতরে মানুষের শরীরের মতো কিছু দেখতে পেয়ে তারা কাছে গিয়ে নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামের ভিতর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে লাশের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শেরপুর ও জামালপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকা বলেই মনে হচ্ছে। লাশের ঠিকানা পাওয়া গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। দ্রুত মৃতের স্বজনদের পরিচয় মিলবে বলে তিনি আশা করছেন।
মাদারীপুর : মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য তাইজুল সরদারকে (২৬) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কালকিনি উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আলামিন সরদার (৩৫) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত তাইজুল সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কুলপদ্দী গ্রামের মৃত রুস্তম সরদারের ছেলে। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহতের চাচা সোবহান সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজা তাইজুল সরদারকে কালীগঞ্জ বাজারে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদারের নেতৃত্বে জহির চৌকিদার, মহাসিন চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজন হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাইজুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাইজুল সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলামিন সরদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় তাইজুলের পরনে বোরকা ছিল বলে জানা গেছে। তবে তিনি কেন বোরকা পরেছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া এদিন ডাসারে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় পুতুল সমাদ্দার (৫২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভোরে উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ধামুসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী অরুণ সমাদ্দার ও সারথী দে নামে এক নারীর পলাতক থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরুণ সমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার সারথী দে নামে এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসাও হয়েছে। গতকাল ভোরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রান্নাঘরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুতুলের চিৎকার শুনে অরুণের বড় বোন পুষ্প দাস সেখানে ছুটে যান। পরে তিনি পুতুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অরুণ সমাদ্দার পালিয়ে যান। নিহত পুতুল সমাদ্দার ধামুসা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত পুলিন নাগের মেয়ে। অভিযুক্ত অরুণ সমাদ্দার একই গ্রামের মৃত জিতেন সমাদ্দারের ছেলে। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গৌতম সরকার বলেন, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও অভিযুক্ত নারী পলাতক। ডাসার থানার ওসি সোলাইমান মাহমুদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা : মহানগরীর পূর্ব বানিয়া খামার এলাকায় গতকাল ভোর রাতে তুষার (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তুষার নগরীর জিন্নাপাড়া এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। চলতি বছরের জুন মাসে তাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার কাছে দুর্বৃত্তরা তুষারকে গুলি করে হত্যা করে। সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, নিহত তুষার কারাগারে থাকা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে চলতি বছর আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সে জামিনে বের হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত তুষারের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
খুলনা : গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার জিন্নাপাড়া ৭ নম্বর গলিতে দুর্বৃত্তরা খুশি (২৫) নামে এক যুবতীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি এলাকার সুমন সরদারের স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
