গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলে বাধা দেওয়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ রোববার সচিবালয় এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনায় মন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ সদরের একটি ইউনিয়নের একটি এলাকায় খেয়াঘাট নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় টহলরত পুলিশ সেখানে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে পুলিশের সদস্যসংখ্যা কম ছিল। এ কারণে তাঁরা হামলার শিকার হন। ঘটনার ভিডিও সরকার দেখেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
রাঙামাটির সাজেকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাহাড়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই তারা বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ ছাড়াও একই ধরনের নামে আরও কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। এর মধ্যে ইউপিডিএফের সংস্কারপন্থী অংশসহ বিভিন্ন উপদল রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও আছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আরও ব্যবস্থা নেবে।
এক অতিরিক্ত ডিআইজির বাসা থেকে ৮৫ জনকে আটক করার পর ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনকে ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়েছে। এবারের দুর্গাপূজার মধ্য দিয়ে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে বলে সরকারের ধারণা। এবার এসব অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও সবার সহযোগিতায় এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
