টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৪৭৯ রান তাড়া করে জেতা আফগানিস্তানের মতো উঠতি দল তো দূরে থাক! ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেও অসম্ভব।
শেষ ইনিংসে রানের পাহাড় ডিঙ্গাতে নামা আফগানিস্তান; মাত্র ১৩ টেস্টের মামুলি অভিজ্ঞতা নিয়েও যে নৈপূণ্য দেখালো তা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। শুধু আফগানিস্তানই নয়, ক্রিকেট বুঝে এমন পার পাঠকও ভূঁয়সী প্রশংসায় ব্যস্ত আফগান ক্রিকেট দলের।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির তারকারা মাথা ঠান্ডা রেখে পঞ্চম দিনে যেভাবে ধৈর্য আর সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে- তা সত্যিই অসাধারণ। আবুধাবি টেস্টে আফগানদের নান্দনিক পারফরম্যান্স, বাংলাদেশতো বটেই! ক্রিকেট পরাশক্তি দলগুলোর জন্যও একটা বড় ম্যাসেজ। আফগানরা বিশ্বকে বার্তা দিয়ে রাখলো- আমরা প্রস্তুত- তোমাদের সঙ্গে লড়াইয়ে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় না পাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা হয়তে হতাশ। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে; ক্রিকেট শুধু জয় পরাজয়ের খেলা নয়। এটা সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বজায় রাখার অন্যতম মঞ্চ। আফগানরা হারেনি বলেই জেতেনি বাংলাদেশ।
আবুধাবিতে সদ্য শেষ হওয়া একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করেছিল। আফগানিস্তান করেছিল ২৪০ রান। বাংলাদেশের লিড ছিল ১০৬ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৬৬ রান পার করে ইনিংস ঘোষণা করে।
জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান। এই রান তাড়া করে জয় পাওয়া আর বিশ্ব রেকর্ড গড়া সমান কথা। অবশ্য জিততে পারলে আফগানরা বিশ্ব রেকর্ডই গড়তো। জিততে না পারায় সেই রেকর্ড আর হয়নি।
রেকর্ড না হলেও চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার সাদেকুল্লাহ অটলের (১১১) সেঞ্চুরি, রহমত শাহের (৫১) ফিফটি ও কায়েস আহমেদের (৪৯*) দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পরাজয়ের শঙ্কা এড়িয়ে দাপটের সঙ্গেই ড্র করে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশে সিজদা দেয় আফগান ক্রিকেটাররা।