গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই পরিণতি টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় হার দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের আগেই নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসকে চোটের কারণে হারায় বাংলাদেশ। এই সিরিজের বাকি অংশে অধিনায়কত্ব করবেন সহঅধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।
এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলরের ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
গত জুলাইয়ে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছিল। শেষ চার ম্যাচে এই নিয়ে তৃতীয়বার জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ।
২৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ তামিমের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৯ বল স্থায়ী জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৪৭ রান যোগ করেন তানজিদ। ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা সৌম্যকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মুজারাবানি। ১৭ বলে ৯ রান করে ব্রায়ান বেনেটের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য।
সৌম্য ফিরলেও তানজিদের ব্যাট খাপছাড়া তরবারি হয়ে উঠছিল। কিন্তু অর্ধশতকের কাছাকাছি পৌঁছে নিয়ামহুরির বলে আউট হন এই বাঁহাতি। বদলি ফিল্ডার রায়ান বার্লের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩৮ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করেন তানজিদ।
তানজিদের বিদায়ের ২ বল পরেই টেস্ট অধিনায়ক শান্তও (৮ বলে ৪) বিদায় নেন। ব্রাড ইভান্সের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এই বাঁহাতি।
অধিনায়কত্ব করতে নামা তাওহীদ হৃদয়ও আশা পূরণ করতে পারেননি। অল্প রানে তাদের বিদায়ে বিপদে পরে টাইগাররা।
২১ বলে ১৩ রান করা হৃদয় সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন।
২২তম ওভারের প্রথম বল থেকে ২৮তম ওভারের পঞ্চম বল পর্যন্ত ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এ সময় স্কোরকার্ডে যোগ হয় মোটে ১৭ রান। মূলত তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা।
শুরুটা মোসাদ্দেককে দিয়ে। ১৮ বলে ১১ রান করে মাসাকাদজার বলে এলবিডব্লিউ হন মোসাদ্দেক। মাসাকাদজা নিজের পরের ওভারে ফিরে বিদায় করেন সাইফ হাসানকেও। ৩৭ বলে ২৬ রান করে টেইলরের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর একই ওভারে নুরুল হাসান (৫) ও শরিফুল ইসলামকে (০) বিদায় করেন ব্রাড ইভান্স।
এরপর রিশাদ ও তাসকিনের ৩২ রানের জুটিতে হারের ব্যবধান কমায় টাইগাররা। রিশাদ ২৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে আউট হন। শেষ ব্যাটার মোস্তাফিজকে বিদায় করেন ইভান্স। তাসকিন ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
ইভান্স ৪টি, রাজা ও মাসাকাদজা ২টি করে এবং মুজারাবানি ও নিয়ামহুরি ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে জিম্বাবুয়ে বাজে শুরুর পরও চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে মূলত ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলরের ব্যাটে ভর করে। আরভিন ১০৬ বলে ৯ চারে ৯৩ এবং টেইলর ১০১ বলে ১০ চারে ৮১ রান করেন।
এছাড়া শেষ দিকে নিয়ামহুরি ও মাসাকাদজা ২১ রান করে করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ৩টি, শরিফুল ও সাইফ ২টি এবং রিশাদ ১টি উইকেট শিকার করেন।
