প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কলকাতার গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জলাশয় ও সরোবরে একেবারে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা লালবাজারের। শহরের ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ও এলাকায় রয়েছে পুলিশ পিকেট। গোটা পরিস্থিতির উপর একেবারে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় পুজোগুলির পাশাপাশি ছোট বারোয়ারি পুজো বা বাড়ির ঠাকুরের বিসর্জন নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্থানীয় পুকুর বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে, সেখানে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বাড়তি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, কলকাতা পুরসভাও ঘাটগুলিতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। খিদিরপুরের দহিঘাট, বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, কুমোরটুলি এবং বাজাকদমতলা এই ঘাটগুলিতেই মূলত প্রতিমা বিসর্জন হয়। তবে সব থেকে বেশি বিসর্জন হয় বাজাকদমতলা, নিমতলা এবং জাজেস ঘাটে। সেদিকে নজর রেখে এই সমস্ত ঘাটগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভা ইতিমধ্যেই এই ঘাটগুলিতে আলাদা আলাদা দল গড়ে তুলেছে, যারা সকাল থেকে টহল দিচ্ছেন। এমনকী গভীর রাত পর্যন্ত এই ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে বলেও জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবারই পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় পুজোগুলির পাশাপাশি ছোট বারোয়ারি পুজো বা বাড়ির ঠাকুরের বিসর্জন নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্থানীয় পুকুর বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে, সেখানে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বাড়তি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটে ঘাটে ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। দশমী থেকে পুরসভার সাফাইকর্মীরা ঘাটে মোতায়েন থাকবেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ঘাটগুলিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রথম দিন অর্থাৎ আজ বুধবার সাধারণত বাড়ির প্রতিমা এবং কয়েকটি বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা বিসর্জন হয়। বাকি পুজো উদ্যোক্তারা দ্বিতীয় দিন থেকে বিসর্জন শুরু করেন। গঙ্গায় দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে ২৫টি ‘লাইফ সেভিং’ নৌকা। তাতে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি দক্ষ মাঝি ও উদ্ধারকর্মীরা রয়েছেন। নিমতলা, বাজাকদমতলা, গোয়ালিয়র ঘাট ও গার্ডেনরিচে চারটি যন্ত্রচালিত নৌকা টহল দিচ্ছে। উদ্ধারকাজের জন্য নৌকাগুলিতে দড়ি ও হুক করে রাখা হচ্ছে। ওই চারটি ঘাটে সাঁতারে দক্ষ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের (ডিএমজি) কর্মীদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তত ৩০টি গঙ্গার ঘাট ও জলাশয়ে থাকবে ডিএমজি। নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।
