ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট :
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৩৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর ত্রি-সেতু এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার (৪৫) ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তাঁকে বিষাক্ত কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহত জসিম তালুকদার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
আজ রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ভৈরবের ত্রি-সেতু এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জসিম তালুকদারকে উদ্ধার করেন রাজিব মিয়া নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার রাজিব মিয়া অজ্ঞাতনামা আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই ব্যক্তিকে বিষাক্ত কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিশোর কুমার ধর আরও বলেন, পরে শ্রীমঙ্গল এলাকার তানভীর মিয়া নামের এক স্বজন হাসপাতালে এসে ওই দিনই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাবলিগ জামাতে যাওয়ার কথা বলে ওই দিনই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জসিম তালুকদার। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে কোনো আঘাত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

