

চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আদাবর ও মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার কয়েকটি সড়কে পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ভবনে নতুন ড্রেনেজ সংযোগ স্থাপনের সময় বাধা সৃষ্টি এবং অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠে।
উত্তপ্ত সাজেক নিয়ে যে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের!
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌঁড়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ এর আগে বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ চলবে। এ কারণে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ জানানো হয়। আঞ্চলিক এ দুটি সংগঠনের অবরোধের ঘোষণার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একই বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদাবরে চাঁদাবাজির অভিযোগে নয়ন গ্রেপ্তার!
রাজধানীর আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া এবং ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও ডিবি পুলিশের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন। এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ডিবি পুলিশ নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এখনো তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। অভিযোগ রয়েছে, আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল নেতা নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

নতুন দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে এক হচ্ছে ৭ ইসলামী দল
কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে একমত হয়েছেন নেতারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এতে সাত দলের ঐক্যপ্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন নেতারা। এ লক্ষ্যে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখবে। এ ছাড়া আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্যান্য নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় সুলতানা বেগম (৩৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাঁকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সোনামসজিদ জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। বুধবার রাতে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ সংগঠন যুব মহিলা লীগের নেত্রী সুলতানা বেগমকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে সুলতানা বেগম নিজেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় নাশকতার একটি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা। আটক সুলতানা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের কোষাধ্যক্ষ। তিনি সদর উপজেলার শেয়ালা কলোনি এলাকার জুলমত আলীর মেয়ে। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিজিবি একজন যুবলীগ নেত্রীকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।

হেফাজতের ঐক্য ভেস্তে যাচ্ছে, জামায়াত জোট ছাড়তে নারাজ তিন দল
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন জোট গঠনে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তসহ প্রস্তাবিত সাংগঠনিক নীতিমালার কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তিনটি দল। দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে খেলাফত মজলিস ইতিমধ্যে ১১-দলীয় জোট ছেড়েছে। জোট গঠনের উদ্যোগে একদিকে হেফাজতে ইসলাম জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে নতুন জোটে রাখতে অনিচ্ছুক, অন্যদিকে কয়েকটি দল নিজেদের সাংগঠনিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। এ দুই অবস্থানের কারণে ঐক্য প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সাত দলের নেতাদের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা ঐক্যের বিষয়ে আশাবাদী থাকলেও শর্তগুলো নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দলগুলোর নেতাদের বক্তব্য, বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই। তবে জোটের নামে কোনো দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যে শর্ত নিয়ে বিরোধ ৭ দলের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের কাঠামো নির্ধারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ৭ দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি হেফাজতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবের একটি ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোনো দল একক সিদ্ধান্তে অন্য কোনো ইসলামি বা অনৈসলামি দলের সঙ্গে জোট করতে পারবে না। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে জোটের মজলিসে শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করা যাবে। আরেকটি ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোনো নেতা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদাবিরোধী বা ভ্রান্ত হিসেবে বিবেচিত কোনো দলের সভা-সমাবেশে অংশ নিতে পারবেন না। প্রস্তাবিত এই দুই ধারার বিরোধিতা করেছে কয়েকটি দল। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসের আপত্তি মূলত জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসের নেতারা জোটের অনুমোদন ছাড়া অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে না পারার শর্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বিধান কার্যকর হলে দলগুলোর নিজস্ব নির্বাহী পরিষদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। জামায়াতের সঙ্গে থাকা দলকে নিতে চায় না হেফাজত হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশীরুল্লাহর বক্তব্য, সংগঠনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও আদর্শের প্রশ্নে আপস করতে চায় না। তার দাবি, জামায়াতের সঙ্গে থাকা কোনো দলকে প্রস্তাবিত জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না হেফাজত। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে হেফাজতের ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তবে আদর্শগত কারণে তাদের সঙ্গে থাকা কোনো দলকে নতুন জোটে রাখার পক্ষে নয় সংগঠনটি। যারা জোটে আসতে আগ্রহী, তাদের স্বাগত জানানো হবে। কাউকে জোর করে জোটে আনার উদ্যোগ নেই বলেও জানান তিনি। শর্ত মানতে রাজি নয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে এমন শর্ত আরোপ করা উচিত নয়, যা দলগুলোর স্বতন্ত্র পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁর মতে, জোট করতে হলে প্রতিটি দলের স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, দলগুলোর প্রধানরাই নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশের ও ইসলামের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার সুযোগও থাকতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন জোট গঠন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১-দলীয় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসও প্রস্তাবিত শর্তে একমত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রস্তাবিত রূপরেখায় আপত্তি নেজামে ইসলামের নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার বলেন, ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। শর্ত চাপিয়ে দিয়ে টেকসই ঐক্য গঠন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, হেফাজতের প্রস্তাবিত রূপরেখার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর সঙ্গে তাদের নীতিগত দ্বিমত রয়েছে। দলটি আপাতত ১১-দলীয় জোট ছাড়ছে না বলেও জানান তিনি। আকিদার শর্তে আপত্তি খেলাফত মজলিসের খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে আকিদার প্রশ্নে শর্ত আরোপের বিরোধিতা করেন তিনি। তার মতে, দলগুলোর নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো ও নির্বাহী পরিষদ অক্ষুণ্ন রেখেই ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কয়েক দফা বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দলগুলোর পক্ষ থেকে ঐক্যের রূপরেখা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আবারও আলোচনা হয়। সেখানেও প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে মতৈক্য হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দলগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে প্রস্তাবিত সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।


