ক্রমেই বাড়ছে সংঘাতের ঝাঁজ। সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার আরামকোতে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি। পরিস্থিতি ক্রমশই গুরুতর হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে জানা গেল, এই যুদ্ধেও নাকি ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছুক ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু তাঁকে সটান ‘না’ বলে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। প্রশ্ন উঠছে, কিন্তু কেন?
আমেরিকায় মধ্যবর্তী (মিড টার্ম) নির্বাচনের আগে ইরানের সরাসরি বোমাবর্ষণ তথা সামরিক তৎপরতা কমে আসাতেই সম্ভবত এবার নতুন একটা যুদ্ধক্ষেত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু! জানা গিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্থতাতেই সৌদি আরবের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। কারণ হিসেবে দেশবাসীর মধ্যে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক সূত্রের দাবি, তেল আভিভের আশা ছিল, আমেরিকার এই দুই বন্ধু দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা তাদের আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু সেই আশায় ‘জল’ ঢেলে দিয়েছে সৌদি।
বলে রাখা ভালো, ইজরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ সই করানোর জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু রিয়াদ বরাবরই বলে আসছে যে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করাটা নির্ভর করছে প্যালেস্টাইন ইস্যুর জন্য। যাতে একেবারেই রাজি নন নেতানিয়াহু।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সৌদির রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল হাউথি। এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। ভয়ংকর সেই হামলার ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইসলামের দুটি পবিত্র তীর্থস্থানে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাত্রীরা। পর মুহূর্তে ব্যাপক বিস্ফোরণ হয়। বিরাট উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি। বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। ফুটেজে ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়তেও দেখা যায়। সেই হামলায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৩ মৃত্যুর পাশাপাশি হামলায় আরও ৩৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। যাদের অনেকেই ভারতীয়। এহেন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সামরিক সহায়তা সৌদিকে বাড়তি অক্সিজেন দিত তা বলা যায়। কিন্তু তবুও এতে রাজি হলেন না সৌদি যুবরাজ।
