বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে অপরাধ কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে এলাকাটিতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং জবরদখল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও মাঝেমধ্যেই গোলাগুলির শব্দে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শহরের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির আড়ালে আবাসিক হোটেলগুলো এখন অপরাধীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। চৌমুহনী নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হোটেলগুলোর কোনোটিতেই আগতদের তথ্যের রেজিস্টার যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা অনায়াসে পার পেয়ে যাচ্ছে। এসব হোটেলে মাদক কারবার, জুয়া এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড অবাধে চললেও দেখার কেউ নেই। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এসব স্থানে যাতায়াত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক আবাসিক হোটেলের অনুমোদন পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চৌমুহনীর বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে দেহব্যবসা, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর। হোটেলগুলোতে আগতদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদেরও এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী বাজারের ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ হোটেল থেকে ১৮ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আটজন এবং ২৫ জুন ‘রাজ’ হোটেল থেকে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এসব অপরাধ বছরের পর বছর ধরে চলছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা শহরের নিরাপত্তা জোরদার ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। শহরের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অচিরেই বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
The post অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত চৌমুহনী: আবাসিক হোটেল নিয়ে উদ্বেগ appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
