বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ইউরোপের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে আলু ও সবজির উৎপাদনশীলতা এবং গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি সিলেটসহ সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বিশেষায়িত সবজি চাষ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি উঠে আসে।
পাটশিল্পের উন্নয়নেও ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। উন্নত পাটবীজ, যৌথ গবেষণা, পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং এবং পাটের সঙ্গে অন্যান্য তন্তু মিশিয়ে কাপড় উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পাটপণ্যে মূল্য সংযোজন এবং নতুন রপ্তানি বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের সার কারখানার আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ডাচ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বন্দর ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে লালদিয়া টার্মিনালসহ বিভিন্ন বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে। পাশাপাশি নদী-খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, বন্দর এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, শুল্ক বিভাগের কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি তরুণ ও নারী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনায় বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
The post ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ appeared first on ভোরের চেতনা.
