সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সাইটগুলোতে প্রবেশাধিকার না থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ কিংবা ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওয়েবসাইট দুটিতে ঢোকার চেষ্টা করা হলে সেখানে সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নোটিশ দেখা যায়। দ্রুত সেবা চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে দফায় দফায় চেষ্টা করেও পোর্টালগুলোতে প্রবেশ করা যায়নি।
কয়েক দিন ধরেই দেশের আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা চলছে। এই ঝুঁকির কারণে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইটও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল, যা টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ সকাল আটটা থেকে পুনরায় সচল হয়েছে। একই প্রেক্ষাপটে অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংকের সাইট বন্ধ করা হলেও বর্তমানে সেগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার সময়েও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন থাকায় গ্রাহকপর্যায়ে লেনদেনে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বব্যাপী হামলার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় ওয়েবসাইটটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে ব্যাংকিংসহ সরকারি সেবা, ই-কমার্স এবং নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অবকাঠামো ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব ডিজিটাল কাঠামোর বড় একটি অংশ পরিচালিত হয় পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে। সম্প্রতি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটির সন্ধান মেলার পর থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
