উত্তরের হিমালয়ান সমতলভূমি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দৃষ্টির সীমানায় উঁকি দিতে শুরু করেছে পৃথিবীর অন্যতম অনন্য আশ্চর্য পর্বতমালা-হিমালয়। প্রতি বছরের মতো এবারও শরতের স্নিগ্ধতা, হেমন্ত ও শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়তেই শ্বেতশুভ্র রূপে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের কুয়াশা চিরে শুভ্র এই পর্বতমালার জেগে ওঠার দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে মায়াময় এক সুখানুভূতি।
ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হয় কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙের খেলা। প্রথমে লাল টকটকে আভা নিয়ে জেগে ওঠা চূড়াটি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমলা, হলুদ এবং অবশেষে ধবধবে সাদা রূপ ধারণ করে। সারাদিন ধরে চলে মেঘ ও রূপালী পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা- কখনও শুভ্র মেঘের আঁচলে লুকিয়ে যায়, আবার কখনও পরিষ্কার নীল আকাশে স্পষ্ট ফুটে ওঠে। তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো ও আশপাশের সীমান্ত এলাকা থেকে ভোরের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে এ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রতি বছরই এখানে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শরৎ থেকে শীতের পুরো মৌসুমজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রূপসী কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্রতা দেখতে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় এবং হিমালয় পর্বতমালায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা প্রায় ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট (৮,৫৮৬ মিটার)। এটি ভারত ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত হলেও এর পাদদেশ থেকে উৎপন্ন চারটি নদী বাংলাদেশেও প্রবাহিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
