বার্সেলোনা, ২৪ অক্টোবর – বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য ও অভাবনীয় অধ্যায় রচনা করলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার’ (Princess of Asturias Award) জিতে নিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার চলমান থাকা অবস্থায় স্পেনের রাজপরিবারের এই রাজকীয় সম্মাননা পাওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা।
স্পেনের ওভিয়েদোর ঐতিহাসিক ‘কাম্পোয়াম থিয়েটারে’ এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্পেনের যুবরাজ্ঞী প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্মারক গ্রহণ করেন মেসি। পুরস্কার গ্রহণ উপলক্ষে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোসহ ঘনিষ্টজনদের নিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টা ওভিয়েদোতে অবস্থান করেন তিনি। প্রিন্সেস লিওনরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎপর্বে অংশ নেওয়ার এই মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে দারুণ আলোচনার সৃষ্টি করে।
সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার আবেগঘন ও রাজকীয় অভিনন্দন:
২০২১ সালে চোখের জলে বার্সেলোনা ছাড়ার সেই বেদনাদায়ক ও তিক্ত অধ্যায় পেছনে ফেলে মেসির এই ঐতিহাসিক সাফল্যে সবার আগে সুর মিলিয়েছেন তার পুরনো ঠিকানা ন্যু ক্যাম্পের কর্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা লিখেছে:
‘২০২৬ সালের ক্রীড়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জেতায় অভিনন্দন, লিও মেসি। তোমার অসাধারণ প্রতিভার জন্য এই স্বীকৃতি পুরোপুরি প্রাপ্য। মাঠে ও মাঠের বাইরে তোমার অবদান স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। অসাধারণত্ব, খেলাধুলার প্রতি অঙ্গীকার ও মানবিক সংহতির মাধ্যমে তুমি বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছ।’
বার্সা আরও স্মরণ করে দেয় যে, ১৩ বছর বয়সে ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে পা রাখার পর মূল দলের হয়ে টানা ১৭টি মৌসুমে ক্লাবের প্রায় সব রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিয়েছিলেন মেসি। ক্লাবের দাবি—মেসির এই অর্জন বার্সেলোনার দীর্ঘ ইতিহাসেরই একটি অবিচ্ছেদ্য ও গর্বের অংশ।
বার্সেলোনায় মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়
- ক্লাবে শুরু: ৩ বছর বয়সে ‘লা মাসিয়া’ যুব একাডেমিতে
- মূল দলে অবদান: টানা ১৭ মৌসুমের সোনালী সাফল্য ও রেকর্ড ভাঙার যুগ
- বর্তমান অবস্থান: ক্লাবের ইতিহাসের চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য গর্বের উৎস
সব বিতর্ক ও পিটিশন উড়িয়ে স্পেনের সম্মাননা:
চলতি বছর অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর স্পেনের বিভিন্ন মহলে মেসিকে এই পুরস্কার দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছিল। এমনকি এই সম্মাননা প্রত্যাহারের দাবিতে বেশ কিছু আইনি আবেদন ও পিটিশনও জমা পড়েছিল। তবে সমস্ত রাজনৈতিক চাপ ও মাঠের বৈরিতা পাশ কাটিয়ে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন’ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—স্পেনের সংস্কৃতি ও বিশ্ব ক্রীড়ার মানচিত্রে মেসির প্রভাব যেকোনো ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহু ঊর্ধ্বে।
এনএন/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::স্প্যানিশ রাজপরিবারের মুকুটে নতুন ইতিহাস! বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ জিতলেন মেসি first appeared on DesheBideshe.