রাস্তার ধারে অন্ধকার জায়গায় ভবঘুরে এক মহিলার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে রাতে ওই ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন বারাসতের গৃহবধূ মধুমিতা দে রায়। নির্যাতন রুখতে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও প্রথমে কাউকে পাশে পাননি তিনি! শেষপর্যন্ত দুই যুবক তাঁর চিৎকার শুনে সেখানে গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুভাষ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যমগ্রামের দোলতলায়।
পুলিশ ও ওই গৃহবধূর সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমীর রাত একটা নাগাদ ঠাকুর দেখে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। সেসময় দোলতলার এক আবাসনের নীচে মহিলার আর্ত চিৎকার শুনে তিনি সেখানে পৌঁছে আঁতকে উঠেছিলেন। অভিযোগ, ভবঘুরে এক মহিলার উপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন এক যুবক। সাহায্যের জন্য মধুমিতা দে রায় চিৎকার করে লোকজন জড়োর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। শেষপর্যন্ত তাঁর ডাক শুনে দুই যুবক সেখানে পৌঁছন।
এদিকে লোকজন দেখে ওই অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। দুই যুবক অভিযুক্তকে কোনওক্রমে ধরে ফেলেন। খবর দেওয়া হয় মধ্যমগ্রাম থানায়। নির্যাতিতার শরীর ঢাকতে মধুমিতা পুজোর বিজ্ঞাপনের ব্যানার ছিঁড়ে তাঁর গায়ে জড়িয়ে দিয়েছিলেন। পুলিশ এলে অভিযুক্ত সুভাষ মণ্ডলকে তুলে দেওয়া হয়। সেসময় দেখা যায়, চোখের আড়ালে ওই ভবঘুরে নির্যাতিতা ওই জায়গা থেকে সরে গিয়েছেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁকে পাওয়া যায়নি! পুলিশ ধৃতকে থানায় নিয়ে যায়।
আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষে বৃহস্পতিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়। অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ওই ভবঘুরের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। মধুমিতার কথায়, “মহিলার ওই অবস্থা দেখে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারিনি। প্রথমেই তাঁর শরীর ঢাকার কথা মনে হয়। আমি চাই, দোষীর কঠোর শাস্তি।”
