শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং পুজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন বিকেল ৩টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে চড়ে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর এলাকায় তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের ধর্মসভা বা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যান এবং সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে নগরীর গণকপাড়ার ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনে রওনা হন। যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো রাজশাহী নগরী জুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সাজানো হয়েছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিশেষ করে ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের সমাবেশস্থলে দুপুর থেকেই ঢল নামে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও গ্রহণ করেছে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে সরাসরি শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজশাহী সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষও তাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
