বাইরে থেকে দেখলে সুখী দম্পতি! একসঙ্গে ছবি, হাসিমুখে ঘোরাঘুরি, নেই কোনও বড় ঝগড়া। অথচ সম্পর্কের ভিতরে ভিতরে জমছে একাকিত্ব। পাশে সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে, মনের কথা বোঝার মতো কেউ নেই! এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন বহু দম্পতি। কিন্তু কেন তৈরি হয় এই মানসিক দূরত্ব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই দূরত্ব এক দিনে তৈরি হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, অনুভূতির আদান-প্রদান কমে যাওয়া এবং একে অপরকে সময় না দেওয়ার মতো বিষয় থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে দূরত্ব। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ইমোশনাল ডিসকানেকশন’ বা আবেগগত বিচ্ছিন্নতা।
কেন সঙ্গী পাশে থেকেও একা লাগে?
দাম্পত্যে একাকিত্বের অন্যতম কারণ হলো, মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ কমে যাওয়া। সারাদিনের গল্প, ভয়, স্বপ্ন কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে সংসারের কাজ, বাজার, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা অফিসের দায়িত্বে।
অনেক সময় সঙ্গী কথা শুনলেও তার পিছনে থাকা আবেগ বা কষ্টটা বুঝতে পারেন না। আবার ঝগড়া এড়াতে গিয়ে অনেকেই নিজের অভিমান ও কষ্ট চেপে রাখেন। বাইরে থেকে সম্পর্ক শান্ত মনে হলেও ভিতরে ভিতরে তৈরি হতে পারে দূরত্ব।
এ ছাড়া, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে সঙ্গীকে সময় দেওয়া বা তাঁর প্রতি যত্ন প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে—এমন ধারণাও সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে কাটাবেন এই একাকিত্ব?
সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে প্রথমেই প্রয়োজন একে অপরকে সময় দেওয়া। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট মোবাইল বা টেলিভিশন সরিয়ে রেখে মুখোমুখি বসে কথা বলুন।
সঙ্গী নিজের অনুভূতির কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে মন দিয়ে শুনুন। তাঁর ছোট ছোট কাজের প্রশংসা করুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, তাই সঙ্গীকে নতুন করে জানার আগ্রহও বজায় রাখা জরুরি।
আর যদি বারবার আলোচনা নীরবতা, অভিমান কিংবা তর্কে গিয়ে শেষ হয়, তবে দাম্পত্য কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, ঝগড়া না হওয়াই সুখী সম্পর্কের একমাত্র চিহ্ন নয়। বরং একে অপরের অনুভূতি বোঝা, খোলামেলা কথা বলা এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাই সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
