আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজে ভারতের টেস্ট দলে মহম্মদ সামির অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অভিজ্ঞ এই পেসারের জায়গা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ক্রিকেট মহলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে সামিকে, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার মহম্মদ কাইফ।
গত এক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করছেন সামি। চলতি সপ্তাহে রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে মরশুমের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পাননি এই অভিজ্ঞ পেসার। তাঁর পরিবর্তে নির্বাচকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন অংশুল কম্বোজ ও আকাশ দীপ।
সামির বাদ পড়া নিয়ে নির্বাচকদের স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন কাইফ। ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটের এক আলোচনায় তিনি বলেন, নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো উচিত। তাঁর মতে, বর্তমানে দল নির্বাচনের পর শুধু দল চূড়ান্ত হওয়ার খবর জানানো হয়। কিন্তু কোনও ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্বাচক বা বিসিসিআইয়ের কোনও আধিকারিককে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায় না।
কাইফের কথায়, “শুনেছি, নির্বাচকরা নাকি সামিকে নিয়ে আর এগোতে চাইছেন না। কিন্তু এখন কেউ সরাসরি কিছু বলেন না। দল নির্বাচনের পর শুধু জানিয়ে দেওয়া হয় যে দল চূড়ান্ত হয়েছে। কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি বা প্রশ্নোত্তর পর্ব হয় না। কোনও নির্বাচক কিংবা বিসিসিআইয়ের আধিকারিক সামনে এসে সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা দরকার।”
২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সামির অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন কাইফ। তাঁর মতে, সেই বিশ্বকাপে সামির পারফরম্যান্স ভারতের ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে অভিজ্ঞ এই পেসারকে বারবার উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
সামির বোলিংয়ের ধরন নিয়েও যে আলোচনা চলছে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন কাইফ। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ স্পেলে বল করতে না পারার কারণেই নাকি সামিকে দলে নেওয়া হচ্ছে না। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁর বক্তব্য, জশপ্রীত বুমরাও নিয়ন্ত্রিত ও ছোট ছোট স্পেলে বল করেন। তা সত্ত্বেও তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠে না।
কাইফ বলেন, “বুমরাও ছোট স্পেলে বল করে এবং তার পর বিশ্রাম পায়। ইংল্যান্ডে ওর ওয়ার্কলোড সামলানোর সময় শুভমন গিলকেও ছোট স্পেলে বল করাতে হয়েছিল। তা হলে সামি ছোট স্পেলে বল করলে সমস্যা কোথায়? এইভাবেও নিজের কাজ করতে পারে।”
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের কাছে সামি কতটা বিপজ্জনক, তা বোঝাতে ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের উদাহরণও দিয়েছেন কাইফ। ধর্মশালায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামির দুরন্ত পারফরম্যান্স এবং ওয়াংখেড়েতে সেমিফাইনালে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় দলে সামি না থাকায় স্বস্তি পাবেন কিউয়ি ব্যাটাররা।
কাইফের কথায়, “নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের জিজ্ঞাসা করুন, তাঁরা কোন বোলারের মুখোমুখি হতে চাইবে না। সবার আগে মহম্মদ সামির নামই আসবে। ধর্মশালায় ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামি একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিল। ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনালের কথাও মনে রাখতে হবে। সামি আসছে না শুনলে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।”
উল্লেখ্য, সামি শেষবার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। দুবাইয়ে সেই ম্যাচেও ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ না মেলায়, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ল।
