কালবেলা · সাধারণ
প্রবাসী নারীকে বিয়ের প্রলোভন, ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
১৪/১০/২০২৬

হিন্দু সেজে জাপান প্রবাসী নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুবদলের এক নেতা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নালিতাবাড়ির আড়াইআনি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিজান।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান জানান, জাপানপ্রবাসী হিন্দু নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জান্নাতুল নাঈম ওরফে অন্তর সরকার ধ্রুবর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জান্নাতুল নাঈম একজন বিবাহিত মুসলিম যুবক হলেও লিমা সাহার কাছে নিজেকে অন্তর সরকার ধ্রুব নামে পরিচয় দিয়ে হিন্দু অবিবাহিত যুবক হিসেবে উপস্থাপন করেন। জান্নাতুল নাইম আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে নিজের ছবি এডিট করে হিন্দু যুবক হিসেবে লিমা সাহার কাছে ছবি পাঠিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করে।
পরে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে লিমা সাহার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা, মোটরসাইকেল ও আইফোন নেন। এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদিও সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
মিজানুর রহমান জানান, টাকা নেওয়ার পর লিমা সাহার কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলে লিমা সাহার সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে লিমা সাহা মিজানুর রহমানকে বিস্তারিত জানান।
ভুক্তভোগীর অনুরোধে গত ২২ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত জান্নাতুল নাঈম ওরফে দ্রুবকে ৫ লাখ টাকা দিবে বলে নালিতাবাড়ি ডেকে নেন মিজান। নালিতাবাড়ি আসার পর জান্নাতুল নাইমকে লিমা সাহার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একপর্যায়ে সে প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করে, যার ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষিত আছে। একপর্যায়ে নালিতাবাড়ির স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অভিযুক্ত জান্নাতুল নাইম ওরফে অন্তর সরকার ধ্রুব তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জামানত হিসেবে রেখে বাকি টাকা প্রবাসী নারীকে ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি লিখিত দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো মিজানুর রহমানকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করেন অভিযুক্ত জান্নাতুল নাঈম।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত প্রতারক জান্নাতুল নাইমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাপান থেকে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗