চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়েছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এএফপির অর্থনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের রপ্তানি বাড়লেও ভোক্তাদের আস্থাহীনতা ও আবাসন খাতের সংকট অর্থনীতির সামগ্রিক গতি সীমিত করছে। চলতি বছরের জন্য বেইজিং ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির অন্যতম নিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।
হুটং রিসার্চের বিশ্লেষক গুও শান এএফপিকে বলেন, রপ্তানি ছাড়া অন্য খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভালো ফল দেখাচ্ছে—এমন খাত খুব কম। তাঁর মতে, চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চীন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্দিষ্ট কিছু বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বন্ধকী ঋণের সুদে ভর্তুকি এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসব বরাদ্দ দ্রুত কাজে লাগানো প্রয়োজন।
এদিকে জ্বালানির উচ্চমূল্য, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে অংশ নেওয়া আইএমএফ কর্মকর্তারা বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সহায়তামূলক পদক্ষেপগুলোকে ‘সীমিত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
