আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবসরের পরিকল্পনা করছেন এমন কর্মীদের বোঝা উচিত যে, কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও কীভাবে তাঁদের এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) সঞ্চয়ের ওপর সুদ জমা হতে থাকে। অনেক কর্মীই মনে করেন যে, অবসরের পরেও তাঁদের ইপিএফ ব্যালেন্সের ওপর অনির্দিষ্টকাল ধরে সুদ মিলবে। তবে, ইপিএফ-এর সুদের নিয়মগুলি নির্ভর করে সদস্যের বয়স, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং 'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডস স্কিম'-এর প্রযোজ্য বিধানগুলোর ওপর।
এই নিয়মগুলি জানা থাকলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা তাঁদের জমা করা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং সুদ প্রদান সংক্রান্ত বিভ্রান্তি এড়াতে পারেন।
৫৫ বছর বয়সের আগে অবসর নিলে: আপনার ইপিএফ-এর কী হবে?
যদি কোনও কর্মী ৫৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই অবসর নেন, তবে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে, সদস্যের বয়স ৫৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তাঁর ইপিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ জমা হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন একজন কর্মী ৫২ বছর বয়সে অবসর নিলেন। ওই কর্মীর জমা করা ইপিএফ ব্যালেন্সের ওপর ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত সুদ পাওয়া যেতে পারে, এমনকি যদি অ্যাকাউন্টে আর কোনও নতুন অর্থ জমা (কন্ট্রিবিউশন) নাও করা হয়।
এর অর্থ হল, চাকরি থেকে অবসর নিলেই যে অবিলম্বে সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, তা নয়। বয়স-সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধান এবং সদস্যের অ্যাকাউন্টের অবস্থা নির্ধারণ করে যে কতদিন পর্যন্ত সুদ জমা হতে থাকবে।
তাই, যারা আগেভাগে অবসর নিচ্ছেন, তাঁদের উচিত সঞ্চিত অর্থ কবে তুলবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট এবং ইপিএফও-র সাম্প্রতিক নির্দেশিকাগুলি যাচাই করে নেওয়া।
ইপিএফ-এ কতদিন পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়?
যেসব কর্মী ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সে অবসর নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অবসরের পরেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদ পাওয়া যেতে পারে। তবে, অবসরের পর তিন বছর পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়- এই ধারণাটি সদস্যের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া উচিত।
উদাহরণস্বরূপ, ৫৬ বছর বয়সে অবসর নেওয়া কোনও কর্মীর ধরে নেওয়া উচিত নয় যে ৫৮ বছর বয়সে সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা অনির্দিষ্টকাল ধরে সুদ পাওয়া যেতে থাকবে। এক্ষেত্রে ইপিএফ-এর প্রযোজ্য নিয়ম এবং সদস্যের কর্মসংস্থান ও অ্যাকাউন্টের অবস্থা বিবেচনা করা আবশ্যক।
ইপিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম এবং যেসব শর্তের ভিত্তিতে কোনও অ্যাকাউন্টকে 'নিষ্ক্রিয়' হিসেবে গণ্য করা হয়- এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
'নিষ্ক্রিয়' ইপিএফ অ্যাকাউন্ট বলতে কী বোঝায়? 'অকার্যকর' ইপিএফ অ্যাকাউন্ট বলতে এমন একটি অ্যাকাউন্টকে বোঝায় যা সংশ্লিষ্ট ইপিএফ বিধিমালার আওতায় অকার্যকর হিসেবে গণ্য হওয়ার শর্তাবলী পূরণ করে। এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ এই নয় যে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছে।
অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইপিএফও বিধানের আওতাভুক্ত থাকে। সদস্যদের উচিত তাদের অ্যাকাউন্টের নথিপত্র যাচাই করা, ব্যালেন্স বা জমার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা এবং সঞ্চিত অর্থ দাবি বা স্থানান্তর করার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা।
কর্মচারীদের এটাও মনে রাখা উচিত যে, একটি 'অকার্যকর' অ্যাকাউন্ট এবং একটি 'বন্ধ' অ্যাকাউন্ট এক নয়। জমা থাকা অর্থ এবং প্রদেয় সুদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্কিমের বিধানের ওপর নির্ভর করে।
অবসর গ্রহণের পরপরই কি ইপিএফ-এর সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়?
না, অবসর গ্রহণের অর্থই এই নয় যে সঙ্গে সঙ্গে ইপিএফ-এর সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সুদ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে বয়স, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং অ্যাকাউন্ট অকার্যকর হওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।
টাকা তোলার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সদস্যদের উচিত তাঁদের সর্বশেষ ইপিএফ পাসবুক পরীক্ষা করা, ইপিএফও-র প্রযোজ্য নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করা।
