মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী বছর ইউরোপে উড়োজাহাজের ভাড়া ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণে বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম এয়ারলাইন রায়ানএয়ার। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারির মতে, বিমান চলাচলের জ্বালানি (জেট ফুয়েল) সংক্রান্ত মূল্যঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ সুরক্ষা না থাকায় বহু বিমান সংস্থা দেউলিয়া হওয়া কিংবা অধিগ্রহণের মুখে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাবে টিকিটের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাইকেল ও'লিয়ারি বলেন, ‘আগামী বছর ইউরোপে বিমানভাড়া বাড়তে দেখবেন, আমার ধারণা তা ১০, ১৫ কিংবা সম্ভবত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আমি বলব, আগামী ১২ মাসে আপনারা ইউরোপের ইতিহাসে বিমানভাড়ার সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখতে চলেছেন।’ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা আকাশপথে পরিবহন পরিচালন ব্যয়ের সিংহভাগই দখল করে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ পূর্বাভাস দিয়েছিল, উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বিগত বছরের ৯০ মার্কিন ডলারের তুলনায় ৭০ শতাংশের মতো বেড়ে বার্ষিক গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৫২ ডলারে ঠেকতে পারে, যা বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফায় বড় ধস নামাবে। ও'লিয়ারি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে ২০২৬ সালের জন্য রায়ানএয়ার ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলারে তাদের জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশ আগাম চুক্তির (হেজিং) মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পেরেছিল। তবে ২০২৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে সুরক্ষার কোনো কার্যকর বন্দোবস্ত বেশিরভাগ ইউরোপীয় সংস্থার হাতেই নেই।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রায়ানএয়ার প্রধান বলেন, ‘আগামী বছরের জন্য আমাদের ৮৫ শতাংশ জ্বালানির কোনো হেজিং নেই এবং ইউরোপের বেশিরভাগ বিমান সংস্থাই একই পরিস্থিতিতে রয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৭ সালের জন্য রায়ানএয়ার মাত্র ১৫ শতাংশ জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারে আগাম নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে বর্তমান খোলাবাজারে তেলের দর প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। একই সংকটে ব্রিটিশ বিমান সংস্থা ইজিজেট জ্বালানি বাবদ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত খরচের কথা জানিয়ে শীতকালীন সময়সূচি থেকে ৭ লাখ আসন বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এদিকে ব্রাসেলস সফরকালে ও'লিয়ারি আরও জানান, বেলজিয়ামের ফেডারেল সরকার বিমান কর ২ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৭ ইউরো নির্ধারণ করায় রায়ানএয়ার তাদের আসন্ন শীতকালীন সূচি থেকে ২০টি রুট এবং বেলজিয়ামের জন্য নির্ধারিত ১০ লাখের বেশি আসন ছেঁটে ফেলছে। বিমান পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, তেলের মূল্যের এই তীব্র ধাক্কা অনেক সংস্থার অস্তিত্বকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। যাত্রীরা অতিরিক্ত খরচের বোঝা বহনে প্রস্তুত থাকলেও টিকিটের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সামগ্রিক বিমান চলাচলে বড় বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
