সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধের জেরে বরিশালের উজিরপুরে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর সময় টিভির স্টিকার লাগানো একটি হায়েস মাইক্রোবাসে করে পালানোর সময় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার কাছের টোলপ্লাজা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই ঢাকায় গাড়িচালক ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উজিরপুর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার পর গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলা এলাকায় সাতলা-কান্দী সড়কের একটি ব্রিজের কাছে হামলার শিকার হন যুবদলকর্মী কাওসার হাওলাদার (৩৮) ও রাশেদ আমিন। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত কাওসার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রাশেদও আহত হন।
নিহত কাওসার উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামের মৃত মোনাছেফ হাওলাদারের ছেলে। পেশায় তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।
পুলিশের ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কাওসারের পূর্ববিরোধ ছিল। সম্প্রতি এ নিয়ে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযুক্তরা ঢাকা থেকে অস্ত্রসহ নয়জনকে ভাড়া করে উজিরপুরে নিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি জানান, ঘটনার সময় কাওসার ও রাশেদ সাতলা বাজারসংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর বসে কথা বলছিলেন। এ সময় মাইক্রোবাসে করে আসা হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে দুজনই খালে ঝাঁপ দেন। পরে কাওসার খাল থেকে উঠে পাশের হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযানে নামে উজিরপুর থানা পুলিশের একাধিক দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, তারা গোপালগঞ্জ সড়ক দিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। পরে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার কাছের টোলপ্লাজায় অবস্থান নেয় পুলিশ। সেখানে হায়েস মাইক্রোবাসটি পৌঁছালে নয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় গাড়িটি ও দুটি ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা মাইক্রোবাসটির মালিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত সজল মোল্লা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই গাড়িচালক ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওসির দাবি, সময় টিভির প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে গাড়িটি ভাড়া নেওয়া হতো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পালাতে মাইক্রোবাসে টেলিভিশন চ্যানেলটির স্টিকার লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
হামলায় আহত রাশেদ আমিনের দাবি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে প্রায় ১৫ জন হামলাকারী এসেছিলেন। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হামলার সময় বাড়ির দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে জানান রাশেদ।
শনিবার গোপালগঞ্জে কাওসারের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
