Published on
:
2 min read
এই সময়: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আঁচে ফের চড়ল ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ। সেপ্টেম্বরে দেশের অপরিশোধিত তেল আমদানির বিল এক ধাক্কায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১,৫৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অথচ এই সময়ে তেল আমদানির পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়েছে ভারতকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি (ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৮ ডলার) এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে সরবরাহে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াই এই বিপুল পরিমাণ খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের আমদানি খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের উপরে চাপ এবং সার্বিক অর্থনীতির হিসেবেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে ভারত ২ কোটি ১৭ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। গত বছরের একই মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩ লক্ষ টন। অর্থাৎ, পরিমাণের নিরিখে বৃদ্ধি ৭ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু, আমদানি বাবদ খরচের অঙ্ক অনেক দ্রুত বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়ান বাস্কেটের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপিছু ৬৯.৬১ ডলার। এ বার তা বেড়ে ১১৬.০৯ ডলার হয়েছে। ফলে সামান্য বেশি তেল কিনতেই ভারতকে অনেক বেশি অর্থ গুনতে হয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এখন শুধু চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামাও বড়সড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের পণ্য আমদানির মোট খরচের প্রায় ২০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে অপরিশোধিত তেল। দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা, শিল্পোৎপাদন এবং দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমদানি কমানো সহজ নয়। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব-এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তার আশঙ্কা জ্বালানি পরিবহণে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই দুই সামুদ্রিক পথ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পরিবহণের খরচ বাড়ে, সরবরাহে বিলম্ব হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও তার প্রভাব পড়ে। ভারতকে তাই দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক রাখতে চড়া দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
