আজ ১৮ অক্টোবর, বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য যুব দিবস (ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ডে ফর ডেমোক্রেসি)। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
বিশ্ব গণতন্ত্র আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগের সঙ্গে দিবসটি সম্পৃক্ত। ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বিশ্ব গণতন্ত্র আন্দোলনের তৃতীয় সম্মেলনে আন্তর্জাতিক তরুণ গণতন্ত্রকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্য পরিবেশনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের নতুন ধারণা, তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের মতে, তরুণেরা শুধু ভবিষ্যতের নেতা নন, বর্তমানেও সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার সুযোগের অভাব বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এসব সমস্যা তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
গণতন্ত্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসিজের মহাসচিব টমাস ই. গ্যারেট এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের অনেক তরুণ তাদের সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারগুলোর উচিত তরুণদের প্রত্যাশা বোঝা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের যুক্ত করা।
তাঁর মতে, তরুণদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবেশের বাধা কমানো জরুরি। এতে সহিংস উগ্রবাদ বিস্তারের পেছনে থাকা কিছু কারণ মোকাবিলা করাও সহজ হতে পারে।
গণতন্ত্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায়ও তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা এবং তাদের জন্য কার্যকর কর্মসূচির অভাব বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ কারণে তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘এখনই তরুণদের সময়’। এর মাধ্যমে তরুণদের কেবল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা না করে বর্তমানেও গণতন্ত্র ও সমাজের উন্নয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব গণতন্ত্রে যুব আন্দোলন তরুণ কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য যুব দিবসের মূল বার্তা হলো, গণতন্ত্রকে কার্যকর, শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে তরুণদের মতামত, অধিকার এবং অংশগ্রহণকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করতে তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখনই।
The post আজ গণতন্ত্রের জন্য বিশ্ব যুব দিবস গণতন্ত্রে তরুণদের ভূমিকা কতটা appeared first on ভোরের চেতনা.
