বাংলার আকাশে আগমনীর সুর। শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ, কাশফুলের দোলা আর শিউলির স্নিগ্ধ গন্ধই জানান দিচ্ছে মা এসে গিয়েছেন। অপেক্ষা শুধু আর একটা রাতের। তারপরই মায়ের বোধন। কিন্তু পুজোপ্রেমী বাঙালিকে কি বেঁধে রাখা যায়! দেবীপক্ষের সূচনা হতেই শুরু হয়েছে প্যান্ডেল হপিং। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভিড়ও। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ছবিটা সর্বত্র একই। পিছিয়ে নেই বেহালাও। এই এলাকার পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম লুনা সেভেন স্টার। গত কয়েক বছর ধরেই থিমের পুজো করে আসছেন এই পুজোর উদ্যোক্তারা। এবারও তার অন্যথা হয়নি। এবার বেহালা লুনা সেভেন স্টারের থিম ‘পাটতন্তু এবং পরিবেশ সচেতনতা’।
ডিজিটাইজেশনের যুগে গোটা বিশ্ব জুড়েই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণের মাত্রা। যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতির উপর। ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বদল নেই অবস্থার। এবার মায়ের আরাধনার মাঝেই মানুষের সচেতনা বৃদ্ধির কাজ করবে বেহালার এই পুজো। বীরেন রায় রোডের এই পুজোমণ্ডপ তৈরি হয়েছে পাট ও পাটজাত সামগ্রী দিয়ে। পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, একদিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পকে নতুন করে জনজীবনে ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এহেন উদ্যোগ।
শুধু মণ্ডপ সজ্জাতেই নয়, দেবী দুর্গা-সহ অন্যান্য দেবদেবীর সাজপোশাকেও রয়েছে পাটের অভিনব ব্যবহার। প্রতিমার শাড়ি ও ধুতি তৈরি হয়েছে পাট দিয়ে, যা এই ভাবনাকে এক স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছে। এখানে শেষ নয়, মণ্ডপ জুড়ে থাকবে একাধিক কারু শিল্প। যা পুজো দেখতে আসা মানুষের নজর কাড়বে বলেই আশা পুজো উদ্যোক্তাদের। ক্লাবের এক সদস্যের কথায়, লুনা সেভেন স্টার এবারের উদ্যোগ ঐতিহ্য, শিল্পভাবনা ও পরিবেশ সচেতনতাকে একসূত্রে এক অন্যন্য সৃষ্টিকে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলার নিজস্ব সম্পদ পাটের বহুমুখী যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাও তুলে ধরা হয়েছে। উৎসবের আনন্দ তো থাকবেই, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও প্রত্যেককে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে সেই বার্তা লুনা সেভেন স্টার দেবে বলে দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের।
