কালবেলা · সাধারণ
কসবায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হুমকির ভয়ে ৩ দিন পর মামলা
২৫/১০/২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের পক্ষের লোকজনের হুমকিতে তিন দিন পর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে কসবা থানায় ইয়াসিন মিয়াকে (৫০) আসামি করে মামলা করা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে থানায় নিয়ে গেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ভুক্তভোগী শিশু। পরে পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে সেখান থেকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাজারে সয়াবিন তেল আনতে যায় শিশুটি। তেল নিয়ে ফেরার পথে মো. ইয়াসিন মিয়া (৫০) জোর করে ধর্ষণ করে ২০ টাকা দেয়। পরে মেরে ফেলার হুমকির দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিশু কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গেলে তার মা ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। তখন সে সবকিছু বলে। বিষয়টি গ্রামের সর্দার ও অভিযুক্তের বংশের সর্দারদের জানানো হয়। শনিবার রাতে মামলা করলে রোববার সকালে শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করার জন্য আমার গোত্রের সর্দাররা ও অভিযুক্তের গোত্রের সাহেব সর্দাররা বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে শালিসে বসে। সভায় ১২ জন সর্দারের মাধ্যমে জুড়ি বোর্ড গঠন করে ধর্ষককে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। আমি বিচার না মেনে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলি। তখন ধর্ষক ইয়াসিন ও বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ও কামাল হোসেন, সহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন বিষয়টি দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে ভয়ে মামলা করতে দেরি হয়। পরে শনিবার রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলা করি।
এ বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আমরা দুই গোত্রের লোকজনসহ সর্দাররা বসেছিলাম ঘটনাটি কতটুকু সত্য বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ধর্ষণের বিচার করবে প্রচলিত আইন, সর্দাররা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, বিষয়টি সত্য হলে ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে শিশুর পরিবারকে সহযোগিতা করা। এছাড়া অন্য কিছু নয়। ধর্ষক আমার আপনজন হলেও তার বিচার হতে হবে।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য নিয়ে আসার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামি পালিয়ে থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗