নিজস্ব প্রতিবেদক · ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহালের দখল অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বালুমহাল দুটি থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে তাহিরপুরের মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশার। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. নাছির মিয়া। বালুমহাল দুটির বিপরীতে ধার্য দর, আয়কর ও মূল্য সংযোজন করসহ (ভ্যাট) সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠিতে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে সরেজমিন দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, যাদুকাটা-১ বালুমহালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৯ টাকা পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ধার্য দর ১২ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার ৫৫ টাকা, ১০ শতাংশ আয়কর ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ২০৬ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ৮০৮ টাকা।
অন্যদিকে, যাদুকাটা-২ বালুমহালের বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে ২৬ কোটি ৮৩ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ টাকা। এর মধ্যে ধার্য দর ২১ কোটি ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৩ টাকা, ১০ শতাংশ আয়কর ২ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬২ টাকা।
দুটি বালুমহালের জন্য মোট ধার্য দর ৩৪ কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ টাকা। এর সঙ্গে আয়কর ও ভ্যাট মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা।
জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত-২ শাখার ২২ সেপ্টেম্বরের স্মারক এবং জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৪ সেপ্টেম্বরের সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি ১৪৩৩ বাংলা সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য এই অনুমতি কার্যকর থাকবে। সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ১৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।
যাদুকাটা-১ বালুমহালটি তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। যাদুকাটা-২ বালুমহালটি তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন বলে জেলা প্রশাসনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাদুকাটা-২-এর তফসিলে তাহিরপুর উপজেলার চালিয়ারঘাট মৌজার ৮৯ দশমিক ৫৬ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বালুমহাল দুটির সীমানা নির্ধারণ করে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে সরেজমিন দখল বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। দখলনামার অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো এবং নির্ধারিত রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করার নির্দেশনাও রয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে যৌক্তিক বিলম্ব হলে কিংবা অন্য কোনো কারণে সমস্যা তৈরি হলে, পরিশোধ করা অর্থ ফেরত বা অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানাতে পারবে না প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার সুযোগও থাকবে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, আমাদের নির্দেশনা রয়েছে যাদুকাটার দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। আজকেই মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারকে আমরা দখল বুঝিয়ে দিব এবং সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হবে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
