নবম পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের অন্যতম আগ্রহের বিষয় হলো- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কত টাকা বকেয়া পাওয়া যাবে।
নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা, বাড়ি ভাড়ার সমন্বয়সহ বকেয়ার সঠিক হিসাব জানতে অনেকেই এখন সহজ পদ্ধতি খুঁজছেন। এ সমস্যা সমাধানে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ এইচটিএমএল পে-স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর।
এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীরা নিজেরাই কয়েক মুহূর্তে নতুন মূল বেতন, মাসিক পার্থক্য, বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের মোট বকেয়ার হিসাব বের করতে পারবেন।
ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে ফাইলটি খুলেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে হিসাব করা যাবে। ক্যালকুলেটরটি ব্যবহারের নিয়ম ও বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
ক্যালকুলেটরটি যেভাবে ব্যবহার করবেন
ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। নির্ধারিত ঘরগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি হয়ে যাবে।
ধাপ ১: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
প্রথমে ক্যালকুলেটর ফরমে আপনার নাম, পদবি এবং অফিসের নাম লিখুন।
উল্লেখ্য, এই ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও বকেয়ার হিসাবের কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে বিবরণীর প্রিন্ট কপি নেওয়ার সুবিধার্থে তথ্যগুলো পূরণ করে রাখা ভালো।
ধাপ ২: বেতনসংক্রান্ত মূল তথ্য প্রদান
১. গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনে আপনার যে গ্রেড ছিল, সেটি নির্বাচন করুন।
২. ৩০ জুনের মূল বেতন: পে-স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন নির্বাচন করুন। তালিকায় আপনার বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে ম্যানুয়ালি বেতনের পরিমাণ লিখুন।
৩. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন: ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতন স্কেলে যে মূল বেতন পেয়েছেন, সেই অঙ্কটি প্রদান করুন।
৪. কর্মস্থল নির্বাচন: আপনার কর্মস্থল নির্বাচন করলে বাড়ি ভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে পে-স্লিপের তথ্য অনুযায়ী এই অঙ্ক পরিবর্তন করা যাবে।
৫. বকেয়ার মাস নির্ধারণ: সাধারণত ক্যালকুলেটরে ডিফল্ট হিসেবে তিন মাস- জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ধরা থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী বকেয়ার সময়কাল এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পরিবর্তন করা যাবে।
৬. ইনক্রিমেন্টের টিক চিহ্ন: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্টের টিক চিহ্নটি তুলে দিন।
ধাপ ৩: ঐচ্ছিক তথ্য প্রদান
আপনার পে-স্লিপে উল্লেখিত বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে ভিন্ন হলে এখানে প্রকৃত অঙ্কটি বসাতে পারবেন।
এ ছাড়া আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের পরিমাণ জানা থাকলে সেটিও নির্ধারিত ঘরে প্রদান করা যাবে। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুযায়ী হিসাব যাচাই করা সহজ হবে।
ক্যালকুলেটরে যেসব হিসাব দেখতে পাবেন
প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনের নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পূর্ণ বিবরণী তৈরি হবে। এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব দেখা যাবে।
১. নতুন মূল বেতন নির্ধারণ: গ্রেড ১০-২০-এর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গ্রেড ১-৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রথম ধাপের নতুন মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে।
২. মাসিক পার্থক্য ও সমন্বয়: নতুন মূল বেতন ও প্রাপ্ত মূল বেতনের পার্থক্য, বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় এবং বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা ১০ শতাংশ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব দেখানো হবে।
৩. সর্বমোট বকেয়া: মাসভিত্তিক বকেয়ার পরিমাণ এবং সব মিলিয়ে মোট কত টাকা বকেয়া হচ্ছে, তা দেখা যাবে। হিসাবের ফল ঋণাত্মক হলে সেটি লাল রঙে প্রদর্শিত হবে।
বকেয়ার হিসাব প্রিন্ট বা পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণের নিয়ম
হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করলেই সম্পূর্ণ বিবরণী প্রিন্ট করার সুযোগ পাবেন। স্বাক্ষরের সুবিধাসহ বিবরণীটি এ৪ সাইজের কাগজে প্রিন্ট করা যাবে। চাইলে পিডিএফ হিসেবেও সংরক্ষণ করতে পারবেন।
হিসাব করার আগে যে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশটি অফিশিয়াল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করে নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর তথ্যের সঙ্গে স্কেল টেবিলের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সঠিক গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, কর্মস্থল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করলেই ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব সহজে বের করা যাবে। তবে হিসাবের চূড়ান্ত নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা, গেজেট এবং নিজস্ব পে-স্লিপের তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
