নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শ্যালিকার বাসা থেকে মো. তানিম খান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তানিমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মামুন খান। তবে তানিমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের দাবি, ঝগড়ার পর তাঁর স্বামী বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
অভিযোগে মামুন খান উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তাঁর ছোট ভাই তানিম খানের সঙ্গে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা জানতে পারেন, রাবেয়ার আগে বিয়ে হয়েছিল এবং আগের সংসারে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
মামুনের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাবেয়া ঢাকার রায়েরবাজারে তাঁর বোনের বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে তানিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তানিমের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারামারি হয়। পরদিন সকালে মোবাইল ফোনে তাঁরা তানিমের মৃত্যুর খবর পান।
মামুনের দাবি, পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর ভাইয়ের শরীরে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, তানিমকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তানিমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন মামুন। এ বিষয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে তানিমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন, রাতে ঝগড়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তাঁর স্বামী বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন। এরপর দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, তানিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

