সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নষ্ট করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করেছে সরকার। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এই অধ্যাদেশ জারি করে।
এতে বলা হয়েছে, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন
পরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে দেশের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো এ সুযোগের আওতায় থাকবে। তবে বড় আকারের ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) মডেল ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেল ধরনের দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবেন। অন্যদিকে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনাও রয়েছে।
অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে।
অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চোরাই বলে জেনেও যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি করা বা নিজের কাছে রাখলেও একই শাস্তি হবে।
সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নষ্ট বা ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এসব অপরাধে সহায়তা, ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনা দিয়ে অপরাধ সংঘটনে যুক্ত হলেও শাস্তি পেতে হবে।
সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও কার্যক্রম তদারকিতে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হবে। অপরাধগুলো মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।
