ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুয়ো’ বাজারে আসার পর ব্যাপক সাড়া পেয়েছে অ্যাপল। আগাম বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে ফোনটির সরবরাহের সময় পিছিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে গড়িয়েছে। শুরুতে ২৩ অক্টোবর থেকে ফোনটি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু চাহিদার তুলনায় পণ্য বা সরবরাহ কম থাকায় অপেক্ষার সময় বেড়েছে। খবর এফটি।
অ্যাপল গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ভাঁজযোগ্য আইফোনের আগাম ক্রয়াদেশে ‘অসাধারণ’ সাড়া পাওয়া গেছে। বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাপলের ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ‘সোল্ড আউট’ হয়ে যায় প্রথম ব্যাচের সব আইফোন। তবে ঠিক কত ইউনিট ফোন বিক্রি হয়েছে বা সরবরাহে কতটা ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি টেক জায়ান্টটি।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস গত মাসে উন্মোচন করেন অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন ‘আইফোন ডুয়ো’। এর দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার সংস্করণটির দাম উঠতে পারে ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত, যা আইফোনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অ্যাপলের স্মার্টফোনের নকশায় বড় পরিবর্তন এনেছে ফোল্ডেবল আইফোন। প্রায় দুই দশক আগে বাজারে আসার পর থেকে কোম্পানির অন্যতম বড় পণ্য আইফোন। এখনো অ্যাপলের মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেক আসে আইফোন থেকে। ফলে নতুন নকশার ফোনটির সাফল্য কোম্পানির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পুরনো আইফোন ব্যবহারকারীদের নতুন মডেল কেনায় উৎসাহিত করতে নকশায় পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। গত বছর বাজারে আনা অতি পাতলা ‘আইফোন এয়ার’ ছিল সে উদ্যোগের অংশ। এবার ভাঁজ করা ফোনের মাধ্যমে নতুন ধরনের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ফোনটির চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপাদান সরবরাহে ঘাটতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে মেমোরি চিপের সংকট। এর প্রভাবে অ্যাপলও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়িয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে অ্যাপল দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত। তাই এ দীর্ঘ বিলম্বকে একটি অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় ২০২২ সালে চীনের কারখানা বন্ধ থাকায় আইফোন ১৪ সিরিজের কিছু মডেলের সরবরাহে এক মাসের বেশি বিলম্ব হয়েছিল। তবে কোনো নতুন আইফোনের ক্ষেত্রে কয়েক মাস অপেক্ষার ঘটনা বিরল।
